ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আন্তঃপ্রজন্ম নীতি নির্ধারণে জাতীয় সভা

নবীন-প্রবীণ সংহতি গড়বে প্রবীণবান্ধব সমাজ

নবীন-প্রবীণ সংহতি গড়বে প্রবীণবান্ধব সমাজ
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০১:৪৭

দেশে এক কোটি ৬০ লাখের বেশি ষাটোর্ধ্ব প্রবীণের বড় অংশই একাকিত্ব ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সীমিত রাষ্ট্রীয় সহায়তার মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২৩ লাখ প্রবীণ মাসে ৬৫০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে প্রবীণদের আয় নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে উন্নয়ন সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে আয়োজিত আন্তঃপ্রজন্ম নীতি-নির্ধারণী বিষয়ক জাতীয় কনসালটেশন সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

জার্মান ইকনোমিক কো-অপারেশন (বিএমজেড) ও হেল্পএইজ জার্মানির সহযোগিতায় রিকের ‘আইএসআইজিওপি’ প্রকল্পের আওতায় ঢাকার খিলগাঁও, নরসিংদী সদর ও পলাশ এবং পিরোজপুর সদরে প্রবীণদের আয় নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় চার এলাকায় ৪৮টি আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব গঠন করা হয়েছে। এসব ক্লাবে দুই হাজার ৪০০ নবীন ও প্রবীণ সদস্য অংশ নিয়ে প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠনে কাজ করছেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা দেশজুড়ে কমিউনিটি-ভিত্তিক আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব গঠন, প্রবীণবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, আইনি সহায়তা ও পর্যাপ্ত আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য জাতীয় ডাটাবেজ ও গবেষণাভিত্তিক তথ্যভান্ডার তৈরিরও আহ্বান জানানো হয়।

রিকের নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসিব খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব। তিনি বলেন, সীমিত সম্পদের কারণে দেশের বিপুল সংখ্যক প্রবীণকে সুরক্ষা দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সরকার প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের জন্য এমন সামাজিক ও পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশে প্রবীণ নিবাসের প্রয়োজন না হয়।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংবাদিক ও লেখক আবু সাঈদ খান এবং উন্নয়ন সংস্থা নারীপক্ষের সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার। উপস্থিত ছিলেন নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরীন হক এবং বিশেষ আলোচক ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এম এম মাহামুদুল্লাহ। সভায় আন্তঃপ্রজন্ম নীতি-নির্ধারণী বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইএসআইজিওপি প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়কারী গবেষক তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু।

সাংবাদিক ও লেখক আবু সাঈদ খান বলেন, সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে প্রবীণদের জন্য আরও কার্যকর সেবা দেওয়া সম্ভব। তিনি প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও তরুণদের কর্মশক্তির সমন্বয়ে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভা ও ওয়ার্কিং সেশনে প্রবীণ নীতিনির্ধারণী বিষয়ক অংশগ্রহণমূলক আলোচনা শেষে বিভিন্ন প্রস্তাবনা নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

×