ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সামাজিকমাধ্যমে নারী নিয়ে ছাত্রসংসদ নেতাদের মন্তব্যে সমালোচনা

সামাজিকমাধ্যমে নারী নিয়ে ছাত্রসংসদ নেতাদের মন্তব্যে সমালোচনা
×

প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে তৈরি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ও রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০০:০০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমার চীন ভ্রমণে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাকিস্তানি নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে পোস্ট করা একটি ছবিতে ছাত্রসংসদ নেতাদের কমেন্ট ফেসবুকে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন নারীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদের নির্বাচিত নেতৃবৃন্দের ‘বিতর্কিত’ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকে। পরে অবশ্য ওই ছাত্রনেতারা তাদের মন্তব্য মুছে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে উম্মে ছালমা ফেসবুকে পাকিস্তানি নারী ওই শিক্ষার্থীর সাথে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেন, ‘বাংলাদেশ+পাকিস্তান, ঢাকা ইউনিভার্সিটি+পিকিং ইউনিভার্সিটি’। পোস্টের তিনটি কমেন্টের স্ক্রিনশর্ট ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি ডাকসুর একটি প্রতিনিধিদল চীন ভ্রমণে গিয়েছেন। ভ্রমণকালে চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটিতে ছবিটি পোস্ট করেন ছালমা।  

কমেন্ট তিনটি করেছেন- ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য তাজিনুর রহমান, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জুলহাস ইসলাম, দুজনই শিবির প্যানেল থেকে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে আরেকটি মন্তব্য করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দীন আম্মার।

স্ক্রিনশর্টটি সংযুক্ত করে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা লিখেছেন, ‘আমাদের একজন নারী সম্পাদক, আরেকজন নারী স্টুডেন্টের সাথে ছবি পোস্ট করে। কিন্তু কমেন্ট সেকশনে এত এত ফেমাস মানুষজন কমেন্ট করেছে, সবাই দায়িত্বশীল কিন্তু। মানে নারী মানে, এটা একটা ভোগ্যপণ্য, এটাকে আমি এভাবেই ট্রিট করবো, এটাকে আমি গ্র্যাব করেই ফেলবো, এমন ভোগ্যপণ্য কি মিস করা যায় বলেন? দ্যাটস অল, ধন্যবাদ।’

কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তাওহিদা সুলতানা লিখেছেন, ‘এরা যেখানে নেতা এবং এদের যেখানে নির্বাচিত করা হয় সেখানে নারীর প্রতি সহিংসতা এত সহজে কমবে না।’

বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এই কমেন্টগুলোই নারীদের প্রতি শিবিরের সামষ্টিক দৃষ্টিভঙ্গির চিত্র। এরা দলগতভাবেই পার্ভাট এবং ধর্ষকামী। নারীকে ভোগ্য বস্তু ছাড়া আর কিছুই মনে করে না।’

জানতে চাইলে তাজিনুর রহমান সমকালকে বলেন, ডাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে তাকে এটা বলেছি পজিটিভ সেন্সে যে, আপনি তাকে আমন্ত্রণ জানান তাকে আপ্যায়ন করব। কিন্তু শব্দ সংক্ষেপের কারণে হয়ত অনেকেই এটাকে অন্যভাবে বুঝেছেন। এই সংক্ষিপ্ত শব্দ চয়নের জন্য এজন্য আমি দুঃখিত।  

তিনি বলেন, ‘এখানে যে ডাবল মিনিং করা হচ্ছে, মূলত এটা আমার কাছে মনে হয় উদ্দেশ্য প্রণোদিত। যেহেতু আমি শিবির প্যানেলের সাথে সম্পৃক্ত আছি। তাই এই জিনিসটাকে টার্গেট করে হয়তো বা এরকম করা হচ্ছে। আমার অতীত কর্মকাণ্ড, কোনো কিছুতে আপনি এরকম কিছু পাবেন না। আমি কখনোই আমি কাউকে নেগেটিভ কিছু বলি না।’

জুলহাস ইসলাম সমকালকে বলেন, উম্মে ছালমা আমার প্রথম বর্ষ থেকে বন্ধু, বন্ধু হিসেবে আমি কমেন্টটি করেছি। আমি অবশ্যই খারাপ ইনটেনশন নিয়ে পাবলিকলি কমেন্ট করব না। তবে নেতৃত্বের জায়গা থেকে এটি আমার উচিত হয়নি। সামনে থেকে ভেবেচিন্তে কমেন্ট করতে হবে।

এই বিষয়ে জানতে রাকসুর জিএস সালাউদ্দীন আম্মারকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

আরও পড়ুন

×