ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

খামারের ৬০ শতাংশ গরু বিক্রি

মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি

খামারের ৬০ শতাংশ গরু বিক্রি
×

ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি খামারে কোরবানির পশুর হাট বসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তোলা সংগৃহীত

 জাহিদুর রহমান 

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০৯:০৪ | আপডেট: ২২ মে ২০২৬ | ১০:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। এরই মধ্যে রাজধানীর খামারগুলোতে ক্রেতার ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। হাট বসার আগেই পরিবার-পরিজন নিয়ে খামারে গিয়ে গরু দেখে বুকিং দিচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের আগ্রহ এখন মাঝারি আকারের গরুতে। এক থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যে তুলনামূলক ভালো ও স্বাস্থ্যকর গরু খুঁজছেন বেশির ভাগ ক্রেতা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বেড়িবাঁধ, বছিলা ও আশপাশের খামার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

খামারিরা বলছেন, এবার বড় গরুর তুলনায় মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন খামারের প্রায় ৬০ শতাংশ কোরবানির পশু বিক্রি হয়ে গেছে।
খামারগুলোতে বর্তমানে ৮০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৫-২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের গরু রয়েছে। হাটের ভোগান্তি, অতিরিক্ত গরম ও পরিবহনের মতো ঝামেলা এড়াতে অনেকে সরাসরি খামার থেকেই পশু কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরের একটি খামারে গিয়ে ক্রেতার উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন; কেউ আবার দাঁত, ওজন, খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দরদাম করছেন। অনেকেই পছন্দের পশু আগাম বুকিং দিয়ে রাখছেন।

এক ক্রেতা বলেন, হাটে গেলে ভিড়ের মধ্যে ভালোভাবে দেখা যায় না। এখানে সময় নিয়ে দেখে কেনা যায়। তবে শুরুতে দাম একটু বেশি চাচ্ছে। ঈদের একেবারে কাছাকাছি সময়ে হয়তো কমবে।

আরেক ক্রেতা বলেন, হাটে গেলে তুলনা করা সহজ হয়। খামারে দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। তারপরও গরম আর ভিড় এড়াতে খামারে এসেছি।

মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার মদিনা ক্যাটেল ফার্মে গরু দেখতে আসা মাহফুজুর রহমান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এবার সীমিত বাজেটের মধ্যেই কোরবানি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। তবে বড় গরুর দাম এখন নাগালের বাইরে। তাই ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে মাঝারি গরুই খুঁজছি।

বড় গরুর দাম অনেক বেশি হওয়ায় মাঝারি গরু খুঁজছেন বলে জানালেন আরও এক ক্রেতা। খামারে এসে গরু কেনাকে নিরাপদ বললেন মাহমুদুল হাসান। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও মাঝারি গরু পছন্দ করেন। 

বছিলা এলাকার একটি খামারে পরিবার নিয়ে গরু দেখতে আসা সোহেল রানা বলেন, ছোট নেপালি গরু আছে, কিন্তু দাম বেশি। মাঝারি সাইজের ভালো গরু কম দেখা যাচ্ছে। বাজেটের মধ্যে পেলে বুকিং দেব।

খামারিরা বলছেন, গোখাদ্য, ওষুধ, শ্রমিক ও পরিচর্যা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবার গরু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। সেই কারণে আগের বছরের তুলনায় অনেক খামারে গরুর সংখ্যাও কমানো হয়েছে।

মোহাম্মদপুরের মদিনা ক্যাটেল ফার্মের মালিক সামিউল এহসান বলেন, আগে আমরা ৩৫০ থেকে ৪০০ গরু প্রস্তুত করতাম। এবার আড়াইশ গরু প্রস্তুত করতে পেরেছি। আমাদের গরুর দাম ৮০ হাজার থেকে ১২-১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত।

হাতিরঝিলের সামারাই ক্যাটেল ফার্মের ব্যবস্থাপক ওয়াহিদুজ্জামান ইরফান বলেন, ৫০০ কেজি পর্যন্ত অনেক গরু লাইভ ওয়েট হিসেবে বিক্রি করছি। ৮০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি।

খামারিরা জানান, এখন অনেক ক্রেতাই ওজন মেপে গরু কিনতে চান। ঈদের দিন সকালে ক্রেতার বাসায় পশু পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে অনেক খামারে। ফলে নগরবাসীর একটি বড় অংশ খামারমুখী হচ্ছেন।

মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার কয়েক খামারির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা আর হাটনির্ভর বিক্রিতে আগ্রহী নন। ফেসবুকে প্রচার, অনলাইন বুকিং ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে ক্রেতাদের খামারে টানছেন। অনেক ক্রেতা একাধিকবার এসে গরু দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

দ্যা নিউ ক্যাটেলের মালিক আনিসুজ্জামান বলেন, গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, মাঝারি গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। এবার তাই মাঝারি গরু বেশি প্রস্তুত করেছি। ইতোমধ্যে অনেক গরু বুকিং হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখন ক্রেতারা সচেতন। তারা স্বাস্থ্যকর ও দেশীয়ভাবে লালন-পালন করা গরু খোঁজেন। অনেকের ধারণা, মাঝারি গরু দেশি জাতের হয়, তাই এর চাহিদা বেশি।

নিউ এগ্রোর মালিক রবিন মিয়া বলেন, মাঝারি গরুর অনেকটিরই বুকিং হয়ে গেছে। বড় গরু এখনও তেমন বিক্রি হয়নি। তবে হাট জমে উঠলে বড় গরুর ক্রেতা আসবে।
রাজধানীর বাইরে সাভারের খামারগুলোতেও এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। উপজেলার ১ হাজার ২৩৯টি খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। লালন ডেইরি ফার্ম, সাভার এগ্রোসহ বিভিন্ন খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু, মহিষ, ছাগল ও দুম্বা মোটাতাজা করা হচ্ছে।

খামারিরা জানান, পশুর পরিচর্যায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দিনে কয়েকবার গোসল করানো হচ্ছে। খাদ্য হিসেবে ভুট্টা, খুদ, খৈল, ভুসি ও গুড় ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের শাহজামান খান বলেন, খামারগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েডমুক্ত পশু নিশ্চিত করতে কাজ করছি। প্রাকৃতিক খাদ্যে লালন-পালন করা পশুই কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×