তৃতীয় টার্মিনালে রাজস্বের ৭৩% জাপান, ২৭% পাবে বাংলাদেশ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০৯:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা জাপানি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে বেবিচক। এতে বলা হয়, চারটি প্রধান খাত থেকে আদায় রাজস্বের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপান এবং ২৭ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত দুই বছরে অন্তত ২০ বার বৈঠক হয়েছে। অচিরেই চূড়ান্ত হবে পরিচালনার বিষয়টি। আগামী মাসের মাঝামাঝিতে চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনাল উদ্বোধন করা।
জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করা বেবিচকের এক কর্মকর্তা জানান, গত ১৭ মে জাপানি প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ৪২ দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা। সে হিসাবে জুনের মধ্যেই প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব।
গতকাল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক সমকালকে বলেন, সম্প্রতি টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে জাপানি প্রতিষ্ঠানকে একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি অচিরেই চূড়ান্ত হচ্ছে বিষয়টি।
টার্মিনালের অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর আগেই শেষ হলেও পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, আয় বণ্টন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে এটি চালু করার প্রক্রিয়া আটকে ছিল। সম্প্রতি সরকার জাপানি পক্ষের প্রায় এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়ার পর আলোচনা নতুন গতি পায়। অতিরিক্ত কাজের বিল পরিশোধের বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বেবিচক কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ সরকার ও জাপানি পক্ষের মধ্যে ধারাবাহিক বৈঠকে পরিচালনা কাঠামো, সেবার মান, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং রাজস্ব বণ্টনের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনালের চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাত– এমবারকেশন ফি, দোকান ও লাউঞ্জ ভাড়া, কার্গো হ্যান্ডলিং চার্জ এবং কার পার্কিং ভাড়া থেকে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব থাকবে জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে। এসব খাত থেকে অর্জিত আয়ের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপান, বাংলাদেশ পাবে ২৭ শতাংশ।
তবে বিমানবন্দরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাত সরাসরি বেবিচকের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ওভারফ্লাইং চার্জ ও বিমান অবতরণ ফি। এ ছাড়া কাস্টমস, নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রমও বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। ফলে কৌশলগত ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভেতরেও অনেক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে দেশের আর্থিক স্বার্থ, জাইকার ঋণ পরিশোধ, পরিচালন ব্যয় এবং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে নীতিনির্ধারকরা সতর্ক অবস্থান নেন। একাধিক দফা আলোচনার পর বর্তমান কাঠামোয় দুই পক্ষ একমত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বেবিচক কর্মকর্তারা আরও জানান, জাপানি পক্ষ তাদের প্রস্তাবে যাত্রীসেবা, কার্গো ব্যবস্থাপনা, এমবারকেশন ফি, অগ্রিম ফি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ কাঠামো উপস্থাপন করেছে। তাদের দাবি, এই মডেল বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাজস্ব প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারবে। একই সঙ্গে জাইকার ঋণ পরিশোধের চাপও তুলনামূলক কমবে। এ ছাড়া দ্রুত চালু করা, বিশ্বমানের ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, কার্গো সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলেও মনে করছেন তারা।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহ আমিরাতের
শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গতকাল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ আল আমৌদি এ বিষয়ে আগ্রহের কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয় তুলে ধরে বলেন, বিমানবন্দরে সেবার মান বৃদ্ধিতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণে প্রস্তুত। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
- বিষয় :
- বিমান
