ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাজেট প্রস্তুতি

কাঁচামাল আমদানিতে কমতে পারে অগ্রিম আয়কর

কাঁচামাল আমদানিতে কমতে পারে অগ্রিম আয়কর
×

 জসিম উদ্দিন বাদল

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ০৮:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন বাজেটে প্রাথমিক ও শিল্প খাতের কাঁচামাল আমদানির ওপর অগ্রিম আয়কর (এআইটি) কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। ব্যবসায়ী ও ভোক্তার ওপর খরচের চাপ কমানো এবং বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাথমিক কাঁচামাল বলতে প্রাকৃতিক মৌলিক, অপরিশোধিত বা প্রাকৃতিক উপাদানকে বোঝায়, যা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে নতুন পণ্য তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়। আর শিল্প খাতের কাঁচামাল হলো পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত প্রক্রিয়াজাত বা আধা-প্রক্রিয়াজাত উপাদান।

বর্তমানে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। এনবিআর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পণ্যের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এই হার কমিয়ে চার বা তিন শতাংশ করা হতে পারে।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তারা বলছেন, কর ছাড়ের সিদ্ধান্ত বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে শিল্পোদ্যোক্তাদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে এবং বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

গত ১৪ মে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুষ্ঠিত বৈঠকে আগামী বাজেটের নীতিগত রূপরেখা ও কর প্রস্তাব পেশ করা হয়। বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা সহজ করা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সচল রাখতে এনবিআরের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়। গত বৃহস্পতিবার এনবিআরের এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এআইটি-সংক্রান্ত প্রস্তাবনায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। এই কর এক বা দুই শতাংশ কমতে পারে।

গত এপ্রিলে প্রাক-বাজেট আলোচনায় ইস্পাত, সিমেন্ট, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, কাগজসহ বেশ কয়েকটি খাতের ব্যবসায়ীরা অগ্রিম কর প্রত্যাহার বা যৌক্তিক পর্যায়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন। তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, অগ্রিম আয়কর কাটার ফলে তাদের কার্যকর মূলধন আটকে যায় এবং ব্যবসায় তারল্য সংকট তৈরি হয়। ফলে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও বর্তমান নিয়মে এই কর চূড়ান্ত মুনাফার সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক ও আইনি জটিলতায় অনেকেই রিফান্ড বা অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। এই অর্থ ফেরত পেতে বছরের পর বছর সময় কেটে যায়। এ কারণে অনেক আমদানিকারক রিফান্ডের আশা ছেড়ে দিয়ে এই করকে ব্যবসার খরচ হিসেবে পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করে দেন। এতে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই পড়ে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, ‘এইচএস কোড-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের চেষ্টা থাকবে। তবে ব্যবসায়ীদের অবশ্যই এর অপব্যবহার ঠেকাতে হবে। আমদানি করা পণ্যের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পদক্ষেপও নেওয়া হবে।’

অবশেষ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এনবিআর সূত্র জানায়, এআইটি কমানোর পাশাপাশি আগামী বাজেটে নির্দিষ্ট সময় পর সহজে রিফান্ড পাওয়ার বিশেষ বিধানও যুক্ত করা হতে পারে। তবে হ্রাসকৃত এই করহার মূলত ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের (আইআরসি) অধীনে পণ্য আমদানিকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চেইনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামালের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ সমকালকে বলেন, ‘শিল্প খাতের কাঁচামালের ওপর অগ্রিম আয়কর এক বা দুই শতাংশ কমানো হলেও উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমবে, নগদ প্রবাহ বাড়বে এবং শিল্প উদ্যোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।’
 

আরও পড়ুন

×