ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আসছে ‘ফেসলেস’ করসেবা, ঘরে বসেই আয়কর রিফান্ড

আসছে ‘ফেসলেস’ করসেবা, ঘরে বসেই আয়কর রিফান্ড
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৮:৩২ | আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ | ১১:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

করদাতাদের হয়রানি কমাতে এবং কর ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করতে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ব্যক্তি ও কোম্পানি করদাতাদের জন্য চালু হতে যাচ্ছে অনলাইনভিত্তিক ‘ফেসলেস’ রিফান্ড ব্যবস্থা। এর ফলে অতিরিক্ত জমা দেওয়া আয়কর ফেরত পেতে কর অফিসে যেতে হবে না, কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে হবে না। রিফান্ড সরাসরি করদাতার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি করদাতা তিন মাস আর প্রতিষ্ঠান দুই মাসের মধ্যে রিফান্ড পাবেন।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত কোনো ব্যক্তি করদাতা যদি তার ওপর প্রযোজ্য করের চেয়ে বেশি কর পরিশোধ করেন, যেমন– উৎসে কর বেশি কাটা হয়, অগ্রিম কর বেশি দেন বা হিসাব চূড়ান্ত হওয়ার পর অতিরিক্ত কর জমা পড়ে, তাহলে তিনি রিফান্ডের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু করদাতা ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, কাগজপত্র যাচাই, কর অফিসে বারবার যাওয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। বছরের পর বছর কেটে গেলেও রিফান্ড পাওয়া যায় না। 

করদাতাদের এই ভোগান্তি দূর করতে এবার আইনি বাধ্যবাধকতা এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী বাজেটে আয়কর রিফান্ড বা কর ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও গতিশীল করতে এনবিআর বড় ধরনের সংস্কার আনছে। ছোট করদাতা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রিফান্ড পান না। আবার এই অতিরিক্ত করের টাকার পরিমাণ কম হলে বেশির ভাগ করদাতা সেটি সমন্বয়ের সুযোগ পেতেন না বা করদাতা ইচ্ছা করেও তা সমন্বয় করতেন না। 

ই-রিটার্ন চালু হওয়ার পর করদাতারা আরও সমস্যায় পড়েন। ছোট করদাতা, বিশেষ করে যাদের বেতন, কৃষিসহ অন্যান্য খাত থেকে আয় হয়, তাদের রিফান্ড হলে তা অনলাইনে নেওয়া সম্ভব হতো না। করদাতাদের উৎসাহ দিতে আগামী বাজেটে এই রিফান্ড ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, প্রাথমিকভাবে বেতন, কৃষি ও আর্থিক খাতের করদাতারা এই সুবিধা পাবেন। অনলাইনে আবেদন ও তথ্য যাচাই শেষে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে ব্যক্তি করদাতার ব্যাংক হিসাবে রিফান্ড পৌঁছে যাবে। আর কোম্পানি করদাতারা রিটার্ন অ্যাসেসমেন্ট শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে রিফান্ড পাবেন। 
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, করদাতাদের সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো হয়রানি। করদাতার সঙ্গে রাষ্ট্রের আস্থার সংকট দূর করতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এখন থেকে অডিট সিলেকশন হবে, যেখানে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না। সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও ‘রিস্ক মেকানিজম’ পদ্ধতিতে আগামী ১ জুলাই থেকে আয়করের পাওনা রিফান্ড সরাসরি করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, করদাতাদের জন্য আলাদা অনলাইন ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে। এর মাধ্যমে করদাতা নিজের বকেয়া, কর দায়, রিফান্ডের অবস্থা এবং অন্যান্য তথ্য অনলাইনে দেখতে পারবেন।

যেভাবে রিফান্ড পাবেন
পরিশোধিত অগ্রিম কর বা উৎসে কর যদি প্রকৃত প্রদেয় করের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে রিফান্ড দাবির জন্য করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন পূরণ করার ক্ষেত্রে আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অনলাইনে নির্ভুলভাবে আয়ের সঠিক বিবরণী এবং বছরজুড়ে কেটে নেওয়া উৎসে কর বা অগ্রিম করের তথ্য সঠিকভাবে ইনপুট দিতে হবে। করদাতার ব্যাংক হিসাবের নাম, নম্বর এবং রাউটিং নম্বর উল্লেখ করতে হবে। তথ্য ভুল দিলে রিফান্ড পাওয়া যাবে না। অনলাইনে রিটার্ন পূরণের পর এনবিআরের সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করে দেখাবে, করদাতার কোনো রিফান্ড বা ফেরতযোগ্য টাকা তৈরি হয়েছে কিনা। রিফান্ডযোগ্য টাকা থাকলে তা কর সনদে দৃশ্যমান হবে। করদাতা তখন বাড়তি পরিশোধ কর সমন্বয় বা ফেরতের আবেদন করতে পারবেন।

সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ সমকালকে বলেন, এটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে করদাতারা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে রিফান্ড পেলে কর প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়বে এবং স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহ পাবেন। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সার্ভার জটিলতা, সিস্টেম সমস্যা বা প্রযুক্তিগত অজুহাত দেখিয়ে যেন কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়, স্বচ্ছ এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। 

সাবেক কর কমিশনার বজলুল কবির ভূঁঞা বলেন, রিফান্ড হলো করদাতার অধিকার। এটা যত দ্রুত ও সহজ হবে, মানুষ তত কর দিতে উৎসাহী হবে। এই সিদ্ধান্ত দ্রুত সময়ে অটোমেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হোক। 

আরও পড়ুন

×