কমলাপুর-সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়
ট্রেনের ছাদ থেকে লঞ্চঘাট, সবখানেই চাপ
ছবি : সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ | ০১:৫২
ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফেরত যেতে হাজারো মানুষ স্টেশন ও ঘাটে জড়ো হন। ট্রেন ও লঞ্চে যাত্রীচাপ বেড়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও ভোগান্তির চিত্রও দেখা গেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সরেজমিনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, সকাল থেকেই ঢাকা ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ভিড়ে প্ল্যাটফর্মগুলো কানায় কানায় পূর্ণ। অনেক যাত্রী আগাম টিকিট কেটেও শেষ মুহূর্তে ট্রেনে উঠতে পারেননি। আবার কেউ কেউ ট্রেনে উঠলেও নির্ধারিত আসনে বসার সুযোগ পাননি।

প্রতিবারের মতো এবারও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক যাত্রীকে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তৎপর থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বড় ধরনের কোনো শিডিউল বিপর্যয় না ঘটলেও অন্তত ১৫টি ট্রেনের মধ্যে পাঁচটির বেশি নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ছাড়তে পারেনি। ধূমকেতু এক্সপ্রেস প্রায় ৩০ মিনিট দেরিতে ছেড়ে যায়, আর নীলসাগর এক্সপ্রেস ছাড়ে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে। এছাড়া রংপুর এক্সপ্রেস, তিতাস কমিউটার ও একতা এক্সপ্রেসও বিলম্বিত হয়।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, পরিচালনাগত জটিলতার পাশাপাশি কিছু এলাকায় রেললাইনের ওপর খড় শুকানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ট্রেনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে, যা বিলম্বের অন্যতম কারণ।

অন্যদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও সকাল থেকে বাড়িফেরা মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়তে থাকে। দুপুর পর্যন্ত চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও বিকেলের দিকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। হুলারহাট, ভান্ডারিয়া, বরগুনা, ভোলা, ইলিশা, আমতলী, চাঁদপুর, হাতিয়া, লালমোহন ও মুলাদী রুটে যাত্রীদের চাপ ছিল সবচেয়ে বেশি।
এদিকে প্রতিবারের মতো এবারও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক যাত্রীকে ট্রেনের ছাদে উঠে পড়তে দেখা গেছে। ছাদে ওঠা ঠেকাতে রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে নানা বিধিনিষেধ ও তৎপরতা চালানো হলেও যাত্রীদের ছাদ থেকে নামানো বা ঠেকানো যায়নি।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে পরিবার-পরিজন ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে যাত্রীরা ঘাটে আসছেন এবং নিজ নিজ লঞ্চে উঠে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। অনেক যাত্রী এবারের ঈদযাত্রার পরিবেশকে আগের তুলনায় স্বস্তিদায়ক বলে মন্তব্য করলেও কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সদরঘাট থেকে ৫৬টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে এবং একই সময়ে ৭৪টি লঞ্চ এসে পৌঁছেছে। এছাড়া আরও ৭০ থেকে ৮০টির বেশি লঞ্চ যাত্রী ওঠানামার ওপর নির্ভর করে যাত্রার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার সদস্য আবুল কালাম বলেন, ঈদের আর মাত্র এক দিন বাকি থাকলেও এবার এখন পর্যন্ত যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম। তবে বুধবার চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নৌ-পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহাগ রানা জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। একইসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফউদ্দিন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সতর্কতা সংকেত মেনে লঞ্চ চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এবার সদরঘাটে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য হুইলচেয়ার, মালামাল বহনে ফ্রি কুলি ও ট্রলি সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া ঘাট এলাকা হকারমুক্ত রাখা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
এদিকে সড়কপথেও ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানীর সায়েদাবাদ, কল্যাণপুর ও গাবতলী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়া যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
- বিষয় :
- ঈদুল আজহা ২০২৬
- কমলাপুর রেলস্টেশন
- সদরঘাট
