হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৬০০ ছুঁইছুঁই
এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ফিরেছে ৫৪৮৫২
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ০৪:৩২
দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু থামছেই না। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯৪ জন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দিনে মারা যাওয়া ছয় শিশুর মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন করে রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে শিশুসহ ৫০৪ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে শিশুসহ ৯০ জন। গত এক দিনে দেশে আরও ১ হাজার ২৯২ জনের শরীরে উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জন। পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জনের।
রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কভিড-১৯ হাসপাতালে এখনও প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৯ হাজার ১০৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৪ হাজার ৮৫২ জন।
নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরির খেসারত
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম সংক্রমণের শুরুতে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সময়মতো ব্যাপক টিকাদান, রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা নির্দেশিকা বাস্তবায়ন, অক্সিজেনসহ জরুরি সেবা নিশ্চিত করা গেলে এত প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টিকাদান বাড়ালেই হবে না; শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, দ্রুত চিকিৎসা, অক্সিজেন সুবিধা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করাও জরুরি। অন্যথায় সামনে আরও বড় মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে।
বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ জিয়াউল হক বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হলেও দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে ৯৯ শতাংশই সুস্থ হয়ে ওঠে। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেনের ঘাটতি দ্রুত শনাক্ত করা না গেলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, মারা যাওয়া শিশুদের বড় অংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। মায়েদের পুষ্টিহীনতাও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিচ্ছে। ফলে হাম ও এর জটিলতা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় হামের টিকার বয়সসীমা ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। আগে টিকা পাওয়া শিশুরাও চলমান বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় টিকা নিতে পারবে।
গতকাল সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে। হামের বিরুদ্ধেও সম্মিলিতভাবে লড়াই চলমান রয়েছে।
ফরিদপুরে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামে আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জন। গতকাল ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মৃত দুই শিশুর একজন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চন্ডীপর্দি গ্রামের সাত মাস বয়সী আয়ান এবং অন্যজন ফরিদপুর সদরের লক্ষ্মীপুর এলাকার দুই বছর বয়সী আদিবা।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আনতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গোপালগঞ্জে মৃত্যু বেড়ে ৪
গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চার বছর বয়সী প্রীতম বিশ্বাসের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার রাতে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। গত ২৮ মে প্রীতমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৬ জন ভর্তি রয়েছে। এ পর্যন্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৭২ জন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯৬৯ জন। জেলায় হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজন।
- বিষয় :
- হাম
