ইউপি নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করবে ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন
ফাইল ছবি
অমরেশ রায়
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ০৯:৩৪
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া সংশোধনী আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জনমতের জন্য খসড়াটি ইসির ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল ও কোন স্তর দিয়ে এই নির্বাচন শুরু হবে, সেটা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেনি ইসি। তবে চলতি বছরের আগস্টে তপশিল দিয়ে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে কয়েক ধাপে ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানেরই নির্বাচনী পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালা সংশোধনের কার্যক্রম চলছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে ইউপি নির্বাচন আচরণ বিধিমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। কমিশন সভায় অনুমোদনের পর আগামী সপ্তাহে জনমত যাচাইয়ে ইসি তাদের ওয়েবসাইটে খসড়াটি প্রকাশ করবে। যেখানে অংশিজন ও নাগরিকদের মতামত প্রদানের জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হবে।
এদিকে, নির্দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলেও ইউপি নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়াটি মতামতের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও পাঠানো হবে। এছাড়া এ বিষয়ে সংবাদপত্রে সার্কুলার জারি ও গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ইসি। এরপর খসড়াটি সংযোজন-বিয়োজন ও কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে যাচাই-বাছাইয়ের (ভেটিং) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে আচরণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে ইসি।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সমকালকে বলেছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে কমিশন সভা হবে বলে আশা করছি। সেখানেই খসড়ায় প্রাথমিক অনুমোদন দিয়ে সবার মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন অসুস্থ। এই সপ্তাহে তাঁর পায়ের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেই কমিশন সভা হবে।
আচরণবিধিতে আনা বড় পরিবর্তন সম্পর্কে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন নির্দলীয় হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও পলাতক আসামিরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা থাকবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না। নির্বাচনের জামানত বাড়বে। আর নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টারের ব্যবহার ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ভোটগ্রহণ এবং পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার বাদ দেওয়া হবে।
স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজন সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশন এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পায়নি ইসি। তবে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকার বর্ষার পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে শুরু করে আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দেশে বর্তমানে স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা এবং ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৩২টি আগামী আগস্টের শেষ নাগাদ এবং আরও ৩৪৩টি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য যোগ্য হবে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে ১০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য অনুপযুক্ত। যার মধ্যে ৭৯টি আইনি বিরোধ, ১৮টি সীমানা সংক্রান্ত সমস্যা এবং সাতটি ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে স্থগিত রয়েছে।
- বিষয় :
- ইউপি নির্বাচন
- স্থানীয় সরকার নির্বাচন
- ইসি
