ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ট্যানারি বর্জ্য থেকে তৈরি খাদ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি

সারাদেশে চিকিৎসকদের শূন্য পদ ৮ হাজার ১৫৯টি

ট্যানারি বর্জ্য থেকে তৈরি  খাদ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ০৮:৫৪ | আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ | ১০:৪৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য মানুষের শরীরে ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, আলসার ও কিডনি রোগের মতো জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে তৈরি পোলট্রি ও ফিশ ফিড ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে কিনা জানতে চান নিলোফার চৌধুরী মনি। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য। বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতু ব্যবহার করা হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এসব বিষাক্ত চামড়ার বর্জ্য ব্যবহার করে কম খরচে পোলট্রি ও মাছের খাদ্য তৈরি করে থাকেন। এ ধরনের খাদ্য খাওয়ানো মুরগির মাংস ও ডিমে বিষাক্ত হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম জমা হয়, যা রান্নার তাপেও নষ্ট হয় না। এই মুরগি বা মাছ মানবদেহে প্রবেশ করলে তা থেকে ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, আলসার এবং কিডনি নষ্ট হওয়ার মতো মারাত্মক জটিল রোগের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ২০১৭ সালে হাইকোর্টের নির্দেশের পর হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে স্থানান্তর কার্যকর করা হয়।

চিকিৎসকদের শূন্যপদ ৮ হাজার ১৫৯টি 
সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুলের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে উপজেলা, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকদের শূন্য পদ আট হাজার ১৫৯টি। দ্রুত সময়ে এসব শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সিঙ্গাপুর-কলম্বোর দক্ষতায় পরিচালিত হবে চট্টগ্রাম বন্দর 
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সব কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক জট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হবে। বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে এবং জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমাতে সরকারের বিভিন্নমুখী উদ্যোগ চলছে। একই সঙ্গে পতেঙ্গা, লালদিয়া ও বে টার্মিনাল-টু ও থার্ড কার্যক্রম শুরু হলে ২০২৯ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হতে পারবে। 

মন্ত্রী বলেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালটি বর্তমানে বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া লালদিয়া টার্মিনাল উন্নয়ন কাজের মাধ্যমে চালুর প্রস্তুতি চলছে। বে-টার্মিনাল পরিচালনার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে এবং বে-টার্মিনাল-২ নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

অপরদিকে বে-টার্মিনাল-৩ বাংলাদেশ সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনাময় সব কনটেইনার টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হলে ২০২৯ সালের মধ্যে সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে এবং তখন সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম একটি তথ্য সংশোধন করে দিয়ে বলেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল কোম্পানি, পোর্ট অব সিঙ্গাপুর নয়।  

মন্ত্রী দাবি করেন, তিনিও সৌদি আরবের ওই কোম্পানির কথাই বোঝাতে চেয়েছেন। আরও জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন বে-টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় বিদেশি বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএর সঙ্গে আলোচনা চলছে।  

নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার 
প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে আরও সম্প্রসারণ এবং নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা যাচাই করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×