প্রতিক্রিয়ায় এনসিপি
প্রস্তাবিত বাজেট অবাস্তব
অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিকল্পনা ব্যাংকিং খাতে চাপ সৃষ্টি করবে
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ০৮:৫৮ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ | ০৯:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রস্তাবিত বাজেটকে অবাস্তব বলে আখ্যা দিয়েছে এনসিপি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারের মনোযোগকে ইতিবাচক বললেও প্রস্তাবিত বাজেটকে প্রতারণামূলক ও দিকনির্দেশনাহীন মনে করছে দলটি। গতকাল শুক্রবার এনসিপির আনুষ্ঠানিক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলা হয়।
রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, এনসিপি মনে করে এই বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট। এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অনেকাংশে ফাঁপা বুলি ও প্রতারণামূলক বাজেটে পরিণত হয়েছে। বর্তমান ভঙ্গুর ও ঋণনির্ভর অর্থনীতির বাস্তবতায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য কাল্পনিক ও উচ্চাভিলাষী।
এনসিপির ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান আতিক মোজাহিদ বলেন, সরকার এনবিআরের জন্য উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তা অর্জনের বাস্তবভিত্তিক রূপরেখা দেয়নি। এনবিআর সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। বাস্তবে সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে না। ফলে শুরু থেকেই আড়াই লাখ কোটি টাকা ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাজেটে বিপুল ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেই ব্যয় নির্বাহের নির্ভরযোগ্য অর্থের উৎস স্পষ্ট নয়। এ কারণে পরে বাজেট সংকোচন বা ব্যয় কমানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, সরকারের বৈদেশিক ঋণ এরই মধ্যে ১০ লাখ কোটি টাকার বেশি এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণের পরিমাণও প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে আবার নতুন করে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা ব্যাংকিং খাতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
রাজস্ব ঘাটতি পূরণে শেষ পর্যন্ত সরকার যদি টাকা ছাপানোর পথে যায়, তাহলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। অথচ একই সঙ্গে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর-ভ্যাট কমানোর কথা বলছে, যা পরস্পরবিরোধী।
ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর উৎসে কর আরোপেরও বিরোধিতা করেছে এনসিপি। দলটি মনে করছে, এতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধার মুখে পড়বেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, লুটতরাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি যেভাবে দুর্বল করা হয়েছে, তাতে রূপান্তরমুখী বাজেট প্রয়োজন ছিল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম
সদস্য সচিব জয়নাল আবদিন শিশির, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত।
- বিষয় :
- সমাবেশ