মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটসের বিবৃতি
প্রস্তাবিত বাজেট প্রশংসনীয়, বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ১৯:১০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ | ১৯:১৩
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে সামগ্রিকভাবে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে এর বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস (এমডব্লিউইআর)।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক এনায়েত উল্লাহ শরীফ (কৌশিক) ও অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী এ আহ্বান জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হিসেবে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রত্যাশা ছিল। গত ২০ মে জাতীয় বাজেট উপলক্ষে এমডব্লিউইআর যে ‘জাতীয় স্বপ্নবাজেট’ প্রস্তাব করেছিল, তার বেশ কিছু বিষয় প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হওয়ায় সংগঠনটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, চাল, গম, আলু ও পেঁয়াজসহ খাদ্যপণ্যের উৎস কর কমানো এবং মোবাইল সিমের ওপর কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব ভোক্তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে করের আওতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ যেন না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে রাজস্ব আদায়ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ সমপরিমাণ ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দকে স্বাগত জানিয়েছে এমডব্লিউইআর। তবে শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, শিক্ষাক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অপচয় রোধ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইন ও বিচার বিভাগের মোট বরাদ্দ কিছুটা বাড়লেও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ২৬৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা থেকে কমে ১৮৮ কোটি ৭২ লাখ টাকায় নেমে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, আদালতে দীর্ঘদিনের মামলা জট নিরসন, নতুন আদালত ভবন নির্মাণ, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ডিজিটাল কোর্ট ব্যবস্থা চালু এবং বিচারকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে উন্নয়ন ব্যয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের বিপরীতে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ মোট বাজেটের প্রায় শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ, যা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে বিচার বিভাগের প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। মামলা জট হ্রাস, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করে সংগঠনটি। এমডব্লিউইআর নেতারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার প্রস্তাবিত বাজেট কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে।
