হাম চিকিৎসায় এখনও নেই জাতীয় নির্দেশিকা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৮:১২
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে তিন মাসের বেশি সময় ধরে হামের প্রকোপ চললেও এখনও জাতীয় পর্যায়ে কোনো চিকিৎসা নির্দেশিকা প্রকাশ করতে পারেনি সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নির্দেশিকা তৈরির কাজ চলছে। এটি চূড়ান্ত হতে আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ দেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ‘হাম চিকিৎসা নির্দেশিকা’ চালু করেছে। গতকাল মঙ্গলবার কলেজ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে নির্দেশিকার উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. শাহাদাত হোসেন।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি খুলনায়। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৪২ জন। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৫৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। সব মিলিয়ে এ সময় প্রাণ হারিয়েছে ৬৫৭ শিশু।
অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৮৭ হাজার ৯২৯ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ সময় পরীক্ষায় ১০ হাজার ৫২৩ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭২ হাজার ৪০৫ শিশু। তাদের মধ্যে ৬৮ হাজার ৭৮২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৩৮ জন এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯০৪ জন।
হলি ফ্যামিলির ৫০ পৃষ্ঠার নির্দেশিকা
হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ প্রণীত ৫০ পৃষ্ঠার নির্দেশিকায় ১৪টি ক্লিনিক্যাল মডিউল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সায়েম মোহাম্মদের নেতৃত্বে এটি তৈরি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় রোগীর ঝুঁকি অনুযায়ী তিন স্তরের ট্রায়াজ ব্যবস্থা, দ্রুত ভিটামিন এ প্রয়োগ, হামজনিত নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস, খিঁচুনি, চোখের জটিলতা এবং তীব্র পানিশূন্যতার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সহযোগী অধ্যাপক ডা. সায়েম মোহাম্মদ বলেন, হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি। এর বেসিক রিপ্রোডাকশন নম্বর (আর-শূন্য) ১২ থেকে ১৮। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে আনুমানিক এক কোটি তিন লাখ মানুষ হামে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় এক লাখ সাত হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু হয়। মৃতের ৯৫ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন বিভাগে এখনও হাম রোগী শনাক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নগর, বস্তি ও যেখানে টিকাদানের হার কম– সেসব এলাকা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এতদিন মানসম্মত চিকিৎসা প্রটোকল না থাকায় চিকিৎসকদের জন্য একক কোনো নির্দেশনা ছিল না।
অনুষ্ঠানে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের প্রণীত নির্দেশিকা জাতীয় হাম চিকিৎসা প্রটোকল হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানায়। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে শিশুর নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পরীক্ষা এবং দ্রুত রোগের প্রাদুর্ভাব শনাক্তে রিয়েল-টাইম ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়।
ডা. সায়েম মোহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশে হামে প্রতিটি মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য। আমরা চাই, সরকার এই নির্দেশিকাকে জাতীয় নির্দেশিকা হিসেবে গ্রহণ করুক।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্দেশকা তৈরি স্বাস্থ্য খাতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামে
চিকিৎসার জাতীয় নির্দেশিকা প্রস্তুতের জন্য কাজ করছে। এটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হতে আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।
- বিষয় :
- হাম
