রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়েছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ
খাবারের নিম্নমান, বিশুদ্ধ পানির সংকট, পরিবেশের সীমাবদ্ধতার কথা বলছেন শিক্ষার্থীরা
সিনথিয়া ইসলাম, রাজশাহী
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা জন্ডিস, হেপাটাইটিস ‘এ’, টাইফয়েডে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের দাবি, খাবারের নিম্নমান, বিশুদ্ধ পানির সংকট, বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং পরিবেশের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তারা এসব পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে শুধু শারীরিক ভোগান্তির পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাকেরা আনজুম জানান, হলে ওঠার কিছুদিন পর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার সময় তিনি জন্ডিসে আক্রান্ত হন। প্রথম দিকে সমস্যা ধরতে না পারলেও খাবারে অরুচি ও গন্ধ সহ্য করতে না পারার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
হলের পানি ও খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করে শাকেরা বলেন, নিচতলা থেকে চারতলায় পানি তুলতেও কষ্ট হতো। হলের খাবারের মান ভালো থাকলে হয়তো এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।
মন্নুজান হলের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেরুন আক্তার বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি হেপাটাইটিস ‘এ’-তে আক্রান্ত হন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও বাসায় বিশ্রামে থাকার পর বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ।
বঙ্গমাতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাফিসা ইসলামও সমস্যার কথা বলেন। তিনি জানান, প্রথমে থেমে থেমে জ্বর, শরীর ব্যথা ও অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। পরে টাইফয়েড শনাক্ত হয়।
তাপসী রাবেয়া হলের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দীকা তানজিলা বলেন, গণরুমে থাকার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি টাইফয়েড সমস্যায় ভুগতে হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের অতিরিক্ত প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা (কবির) জানান, বর্তমানে মেডিকেল সেন্টারে জন্ডিস ও টাইফয়েড রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ জন রোগী এ ধরনের সমস্যা নিয়ে আসেন, যাদের অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ড. শাহ্ হোসাইন আহমদ মাহদী বলেন, এ ধরনের সমস্যা নিয়ে কেউ আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। তবে প্রতিটি হলে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে হল প্রশাসন কাজ করছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পানির লাইনগুলো অনেক পুরোনো। এগুলো পরিবর্তনের জন্য আমরা চাহিদা দিয়েছি। এবার ইউজিসির বাজেটে পাওয়ার কথা। পেলেই কাজ শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, সব হলেই সাবমার্সিবল পাম্প দেওয়া আছে। শিক্ষার্থীদের সচেতন হতে হবে। নিজে সতর্ক না হলে ১০০ ডাক্তার নিলেও লাভ হবে না। তারা ফাস্টফুডে বসে অনেক সময় লাইনের পানি খায়।
- বিষয় :
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
