পাঁচ বছরে ১৮ খুন দেখল কয়রা
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৮:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনার কয়রা উপজেলায় চলতি বছরের তিন মাসে তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গত পাঁচ বছরে আরও ১৫ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার নজির রয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাকেই দায়ী করেছেন স্থানীয়রা।
সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে গত ৪ মে উপজেলার শিমলারাইট গ্রামে। জমিজমা নিয়ে দুপক্ষের বিরোধের জেরে এছার আলী (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে চৌকুনি গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী ভবতোষ মৃধার (৪০) ঘরে ঢুকে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বত্তরা। গত ২৩ মার্চ আংটিহারা গ্রামে শ্বাসরোধ করে ফজলু গাজী (৬৬) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেন তাঁর স্ত্রী। এ ছাড়া, গত বছরের ২৬ আগস্ট ঘুগরাকাটি গ্রাম থেকে সামিরা (৯) নামে এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজের পর আজও তার খোঁজ মেলেনি।
উপজেলায় সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর রাতে। সে দিন দুর্বৃত্তরা বামিয়া গ্রামের একটি বাড়িতে ঢুকে বাবা, মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে দেয়। এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি আজও।
এ ছাড়া, ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল মাদারবাড়িয়া গ্রামের একটি বাড়ির বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে ঢুকে হোসনেয়ারা খাতুন (৭০) নামে এক নারীকে খুন করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। একই বছরের ৫ আগস্ট কয়রা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মহসীন রেজাকে তাঁর বাড়িতে ঢুকে পিটিয়ে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই বছরই ২৬ জানুয়ারি ছয় বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।
২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর ইসলামপুর গ্রামে সাগর সাহা নামে এক বিক্রয় প্রতিনিধিকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেউলিয়া বাজারে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে ভ্যানচালক ইমরান হোসেন খুন হন। একই বছরের ২৮ এপ্রিল সীমানা পিলার নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার জেরে ছায়রা খাতুন নামে নারীকে পিটিয়ে হত্যা করেন তাঁর স্বামী। ২০২২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর হড্ডা গ্রামে উত্ত্যক্তের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যা করেন কলেজছাত্রী তনুশ্রী মাঝি। ২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কিনুকাটি গ্রামের একটি খাল থেকে কার্তিক সরদার নামে দিনমজুরের লাশ উদ্ধার করা হয়। একই বছরের ৩ মার্চ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাদিউজ্জামান রাসেলকে পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা।
এ ছাড়া উপজেলার ফতেকাটি গ্রামে নজরুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আমাদি গ্রামে ঘের নিয়ে দ্বন্দ্বে খুন হন যুবলীগ নেতা জাহাবাজ আলী। দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে আসামি ধরতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন পুলিশ কনস্টেবল মফিজুল ইসলাম।
কয়রা থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ‘সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা থেকে বলা যাবে না আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছেন তারা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সংগঠনের কয়রা শাখার সভাপতি মোস্তফা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে দোষীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।’
উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ইউএনও মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ‘সম্প্রতি ঘটে যাওয়া তিন খুনের ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে, এটা ঠিক।’ তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
- বিষয় :
- খুন
