একনেকে অনুমোদন
চট্টগ্রামে হচ্ছে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৮:৪০ | আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৯:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পে অবশেষে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর সামনে রেখে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকায় গত একনেক বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
গতকালের বৈঠকে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ মোট পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্পটির অনিয়ম তদন্ত সাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্য প্রকল্পের মধ্যে তিনটি নতুন এবং বাকি দুটি চলমান প্রকল্পের সংশোধনী। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর ব্যয় ধরা হয় ৭ হাজার ৩ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের মধ্যে একমাত্র চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পে বিদেশি উৎসের ঋণ রয়েছে। চীন সরকার প্রকল্পে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকার বেশি ঋণ দিচ্ছে। এই প্রকল্পের ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং বাকি প্রকল্পগুলোর ব্যয়সহ মোট ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে সরকারের নিজস্ব জোগান থেকে।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান গতকালের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ; শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
বৈঠক শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। এতে একনেক বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
গত একনেক বৈঠকে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর সামনে রেখে এবার বৈঠকে অনুমোদন হলো ব্যাপারটি এ রকম কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে জোনায়েদ সাকি বলেন, একনেকে প্রকল্পটি উপস্থাপন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার অংশ।
গত একনেক বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যার সময় পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল বলেন, গত একনেক মিটিংয়ে সময়ের অভাবে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রকল্পে চীনা ঋণের সুদের হার তুলনামূলক অনেক কম। ২ থেকে ৩ শতাংশ সুদে এ ঋণ পাওয়া যাচ্ছে।
জানা গেছে, প্রকল্পটিতে সবুজ ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার এবং আধুনিক পরিবেশগত মান ও প্রটোকল অনুসরণ করে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মূল প্রকল্প প্রস্তাবের ত্রুটিগুলো দূর করে প্রকল্প নকশায় কোনো পরিবেশগত ঘাটতি যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেন তারেক রহমান। এ ছাড়া প্রকল্পে সৌরভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পুরো শিল্পাঞ্চলে সৌর প্যানেল স্থাপনেরও নির্দেশনা দেন তিনি।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ‘চীনা অর্থনৈতিক শিল্পাঞ্চলের সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ’ নামে প্রকল্পটির কাজ আগামী জানুয়ারিতে শুরু হবে। শেষ হওয়ার কথা ২০৩১ সালের ডিসেম্বরে। বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে শিল্পাঞ্চলটিতে। এতে ৫০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগের আশা করা হচ্ছে। কর্মসংস্থান হবে এক লাখ মানুষের। কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে ৮০০ একর জায়গাজুড়ে এ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চীনা অর্থনৈতিক জোন নির্মাণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ বিষয়ে তখন দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। তবে নানা জটিলতায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল নির্মাণ প্রকল্পটির কাজ আর এগোয়নি।
অন্যদিকে ১০০টি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্পটি দেরি হওয়ার কারণ অনুসন্ধান ও অনিয়ম তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পটি তৃতীয়বারের মতো সংশোধন করা হলো। ২০১৪ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ৯২৪ কোটি টাকার প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে এখন ২ হাজার ৫২০ কোটিতে এসে ঠেকেছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
অনুমোদিত অন্য তিন প্রকল্প হচ্ছে ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়), করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন ও পদ্মা নদীর ভাঙন হতে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলাধীন শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা প্রকল্প। এটি এই প্রকল্পের প্রথম সংশোধন।
বিধি অনুযায়ী ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদনের এখতিয়ার রাখেন। এ রকম চারটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভায় অবহিত করা হয়। এগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ, সাভারে নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী স্টেশন শমসেরনগরে বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ত্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রম চতুর্থ পর্যায় প্রকল্প।
- বিষয় :
- একনেক
- ইপিজেড
- অর্থনৈতিক অঞ্চল
