বিশ্বমঞ্চে মডরিচ-হ্যারি কেইনের লড়াই আজ
সুমন মেহেদী
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৯:৪১
গ্রুপ পর্বের আকর্ষণীর ম্যাচের সংক্ষিপ্ত তালিকায় শুরুতে আছে ‘এল’ গ্রুপে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার লড়াই। ম্যাচের টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে থাকবে আঁচ করে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ডালাস স্টেডিয়ামে রাখা হয়েছে ম্যাচ। যেখানে ৮০ হাজার দর্শক বসে খেলা দেখতে পারেন। এমনকি ১ লাখ টিকিটও বিক্রি সম্ভব। টিকিটের মূল্যও ‘প্রিমিয়ার প্যাকেজে’ রাখা হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টার ম্যাচের সব টিকিট এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। কারণ পরিষ্কার। ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের দল। রাশিয়া বিশ্বকাপের রানার্সআপ ও কাতারে সেমিফাইনাল খেলেছে ক্রোয়াটরা। ইংল্যান্ডও প্রতি আসরের মতো বিশ্বকাপে পা রেখেছে শিরোপার দাবিদার হিসেবে।
দলীয় লড়াইয়ের পাশাপাশি আছে তারকার দৌরাত্ম্যও। রাশিয়া বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ী হ্যারি কেইন এবং গোল্ডেন বল উঠেছিল লুকা মডরিচের হাতে। দুজনকে চাইলে নানা বিশেষণে বিশেষাষিত করা যায়। বিশ্বের চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে মডরিচ (১৯৮) দুইশ’ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পথে আছেন। ক্লাব ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা ধরলে এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার তিনি। বয়স ৪০ হলেও ফর্মে ভাটা পড়েনি। মৃদুভাষী মডরিচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের ছোট ভাবলে ভুল করবে ইংল্যান্ড, ‘মানুষ যা বলে, বিশেষ করে ইংল্যান্ডের টিভি বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকাররা, এসবের কোনো ভিত্তি নেই– আমরা তা প্রমাণ করেছি। তারা ক্রোয়েশিয়াকে ছোট করলে বিরাট ভুল করবে।’
আবার হ্যারি কেইন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ইনফর্ম বিশেষজ্ঞ স্ট্রাইকার। সদ্য শেষ ক্লাব মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ লিগের সর্বাধিক ৬১ গোল (৫১ ম্যাচে) করেছেন তিনি। বায়ার্নকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন।
ইংল্যান্ডের ডাগ আউটে দাঁড়ানো জার্মান কোচ টমাস টুখেল তো বলেই দিয়েছেন, ইংল্যান্ডকে কেবল হ্যারি কেইন বিশ্বকাপ জেতাতে পারেন, ‘আমি একটা কথা বলে রাখি। কেইন যদি ফিট না থাকে কিংবা বিশ্বকাপে খেলতে না পারে, ইংল্যান্ডের শিরোপা জেতার কোনো সুযোগই নেই। সে অসাধারণ স্ট্রাইকার এবং অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের যে তালা ভাঙতে চায়, তার চাবি হচ্ছেন কেইন।’
দলীয় হিসেবেও তারকাসমৃদ্ধ ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। জার্মান কোচ টমাস টুখেলের দলে আছেন জুড বেলিংহাম, ডেক্লান রাইসের মতো মিডফিল্ডার। ফরোয়ার্ড লাইনের এব্রেচি এজে, মরগান রজার্স, বুকোয়াকা সাকারা ছন্দে আছেন। রক্ষণে আছেন মার্ক গুইহি, জোন স্টোনস, রিচি জেমসরা। যদিও ডিফেন্ডার লেভামেন্তো ইনজুরি নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন।
ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড় বড় তারকার খ্যাতি গায়ে না মাখলেও পিছিয়ে নেই তারা। রক্ষণে ম্যানসিটির জোসকো গার্ডিওল, বায়ার্নের জোসিফ স্টানিসিক, ফিওরেন্টিনার মারিন পোঙগ্রাসিকরা আছেন। মিডফিল্ডে নতুন মডরিচ খ্যাত ইন্টার মিলানের তরুণ পিটার সুসিক আছেন। এ ছাড়া আটালান্টার মারিও পাসালিক, ব্লোগানার নিকোলা মোরোরা আলো কাড়ার মতো। ফরোয়ার্ডে অভিজ্ঞ ইভান পেরিসিচ, ওশাসুনার আন্তে বুদিমির আছেন ক্রোয়াট দলে।
ইউরোপের দুই পরাশক্তি মুখোমুখি হয়েছে মাত্র ১১ ম্যাচে। এর মধ্যে ইংলিশরা ৬ ম্যাচে জিতেছে। তিন ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি ক্রোয়াটরা ড্র করেছে দুই ম্যাচে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক দুই বড় মঞ্চের লড়াইয়ে সমানে সমান দুই দল। রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের স্বপ্নভঙ্গ করেছিলেন মডরিচরা। দুই বছর আগের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বে আবার জয় পেয়েছিল ইংলিশরা।
এবারের লড়াইয়ে মাঠের তারকাদের সঙ্গে লড়াই চলবে ডাগ আউটেও। ক্রোয়াট কোচ গ্লাটকো ডালিক তিন বিশ্বকাপে দলটির ডাগআউটে দাঁড়াচ্ছেন। মডরিচদের বিদায়ী আসরে নতুন প্রজন্ম গড়ে দিয়ে যাচ্ছেন এই কোচ। টুখেল ডাগ আউটে দাঁড়াবেন চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে।
- বিষয় :
- লুকা মডরিচ
- হ্যারি কেন
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
