ভোজিনহার নামেই লুকিয়ে ফুটবলের গল্প
আহসান হাবিব সম্রাট
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ১০:২৭
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই স্পেনকে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। ম্যাচে লা রোজাদের সাতটি গোল প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে ফুটবল অনুরাগীদের প্রশংসায় ভাসছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। গোলশূন্য ম্যাচটিতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখানো ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের নামের আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্যরকম রোমাঞ্চকর গল্প।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অনুরাগী বাবা ভোজিনহার নাম রেখেছিলেন ম্যারাডোনার সতীর্থ ও আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড় জর্জ ভালদানোর নামে। পরে তাঁর নাম পাল্টে রাখা হয় হোসিমার হোসে এভোরা দিয়াস। ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলারের নামানুসারে। নাম নিবন্ধনকারী সরকারি কর্মকর্তার চাপেই ভালদানো হয়ে যান হোসিমার দিয়াস।
ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোজিনহা জানান, ফুটবলবিশ্বের কাছে আমি ভোজিনহা নামেই পরিচিত। ফুটবলে আমার সাফল্যের জন্য আমি জর্জ ভালদানো ও হোসিমারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, যাদের থেকে আমি অনুপ্রেরণা পেয়েছি।
১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলে ম্যারাডোনার সতীর্থ ছিলেন জর্জ ভালদানো। ওই টুর্নামেন্টে চারটি গোল করেন তিনি। বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স দেখে কেপ ভার্দের এক বাসিন্দা এতটাই মুগ্ধ হন যে, তাঁর সদ্যোজাত সন্তানের নাম রাখেন জর্জ ভালদানো। কিন্তু বাদ সাধে দেশটির নাম নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ। ভোজিনহার বাবা জে পেদ্রো যখন সন্তানের নাম নিবন্ধন করার চেষ্টা করেন, তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ কেপ ভার্দের আইন অনুসারে বিদেশিদের নামে সন্তানের নাম রাখা নিষিদ্ধ ছিল। তখন জে পেদ্রো কৌশল খাটিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা হোসিমারের নামে সন্তানের নাম নিবন্ধন করেন। কৌশলটি হলো কেপ ভার্দে ও ব্রাজিল উভয় দেশের ভাষাই পর্তুগিজ। ফলে হোসিমার নাম নিয়ে কোনো আপত্তি ওঠেনি।
ফুটবল অনুরাগী জে পেদ্রো কেন পরে সন্তানের জন্য হোসিমার নাম বেছে নিয়েছিলেন, সেটার কারণ জানিয়ে ভোজিনহা বলেন, ‘১৯৮৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হোসিমার দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন। টুর্নামেন্টে নর্দান আয়ারল্যান্ড ও পোল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দর্শনীয় দুটি গোল করেছিলেন তিনি। আমার দাদা ব্রাজিলকে সমর্থন করতেন, কারণ তিনি ফুটবলকে ভালবাসতেন এবং বিশেষ করে ব্রাজিল ফুটবল দলকে। আমার নামকরণের বিষয়টি আসলে ফুটবলকে ভালোবাসারই গল্প।
হোসিমার যেভাবে ভোজিনহা
এই নামকরণের পেছনে জড়িয়ে আছে তাঁর ছেলেবেলার কাহিনী। ভোজিনহার বাবা সামরিক বাহিনীতে এবং তাঁর মা কর্মজীবী হওয়ায় দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। ফলে ভোজিনহাকে দেখাশোনা করতেন দাদি মারিয়া সেনহোরিনহা দোস সান্তোস। পাড়ার বড়দের সঙ্গে খেলতে গিয়ে প্রায়ই ঝগড়া-হাতাহাতিতে লিপ্ত হতেন ভোজিনহা। তিনি হারতে পছন্দ করতেন না। যখনই বিবাদে কারও সঙ্গে পেরে উঠতেন না সঙ্গে সঙ্গে নালিশের জন্য দাদির কাছে ছুটে যেতেন ভোজিনহা। যে নামের অর্থ (ছোট দাদি বা দাদির কণ্ঠস্বর)।
স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ম্যাচটি পরলোকগত দাদা-দাদিকে উৎসর্গ করেন ভোজিনহা, ‘আমি আমার বাবা-মা এবং দাদা-দাদির কাছে খুবই কৃতজ্ঞ। যারা ঊর্ধ্বাকাশ থেকে আমার ওপর কিরণ ছড়াচ্ছেন। দুই বছর আগে আমি আমার দাদি ও দাদাকে হারিয়েছি। তারা আমাকে বড় করেছেন। আজ যদি তারা বেঁচে থাকতেন, তাহলে তাদের নাতিকে নিয়ে খুবই গর্বিত হতেন।’
- বিষয় :
- ভোজিনহা
- বিশ্বকাপ ফুটবল
