ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা
×

তীব্র গরমের পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ মেঘে ঢেকে যায় রাজধানীর আকাশ। এরপর শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে তোলা। ছবি-সাজ্জাদ নয়ন

জলবায়ুবিষয়ক প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ০৭:৪০

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বজ্রপাতে সিলেট ও নেত্রকোনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাশ বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার পর সিলেট, ময়মনসিংহ ও দেশের উত্তরাঞ্চলের উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে, যা তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে এসব অঞ্চলের নদনদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশিত কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদনদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী এবং ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদনদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী এক দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে, এরপর চার দিন পানি বাড়তে পারে। তবে তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সুরমা নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে এবং আগামী তিন দিন তা আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী এক দিন স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে। এ সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীগুলো সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে এবং কোথাও কোথাও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। রংপুর অঞ্চলের তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল বেড়েছে, ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানি বেড়েছে, ভুগাই নদীর পানি কিছুটা কমেছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি বৃদ্ধির প্রবণতা থাকতে পারে। এতে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টির মধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই জেলের নিহত হয়েছে। আহত হয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন আরও একজন। নেত্রকোনার মদন ও কেন্দুয়া উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×