ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প
×

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বর্তমান ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় আগামী দিনে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) উপস্থাপন ও পরামর্শক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকল্প গ্রহণের তথ্য জানান। 
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং উচ্চতর অর্থনৈতিক ধাপে অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা। এ জন্য শিল্প খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া গেলে দেশের রপ্তানি আয় তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে চামড়া, হালকা প্রকৌশল ও পাটভিত্তিক শিল্পে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, চামড়া ও হালকা প্রকৌশল খাতে গড়ে ওঠা অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে উচ্চ মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুটভিত্তিক ফেব্রিক উৎপাদন বাড়াতে গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। এ খাতে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতাকে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের অন্যতম দুর্বলতা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত অভিযোজনের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতা মোকাবিলা এবং রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞতা ও চাহিদার ভিত্তিতে খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
তিনি জানান, ব্যবসা সহজীকরণ, ডিজিটাইজেশন, নীতিগত সহায়তা এবং প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে কার্যকর ও টেকসই রপ্তানি উন্নয়ন মডেল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং সম্ভাব্য বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে সম্পৃক্ত করে প্রকল্পটি পরিচালনার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের সর্বশেষ নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৬ সালের নভেম্বর। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত করতে অনুরোধ জানিয়ে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। উত্তরণ পেছানোর অনুরোধে সীমিত সময়ের জন্য সমর্থন জানিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় পাওয়া শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। ওষুধ শিল্পে মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরও কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে। উৎপাদিত পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা এবং বিভিন্ন ধরনের ভর্তুকি দেওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে। এর ফলে দেশের রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কাঁচামাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে উৎসবিধি আরও কঠোর হবে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক। এ ছাড়া বক্তব্য দেন এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি।

আরও পড়ুন

×