ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সংসদে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

বিরোধীরা শুধু ক্ষমতার ভাগের সংস্কারের কথা বলে, স্বাস্থ্যখাতের নয়

বিরোধীরা শুধু ক্ষমতার ভাগের সংস্কারের কথা বলে, স্বাস্থ্যখাতের নয়
×

অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। ছবি- ভিডিও থেকে নেওয়া।

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ১৬:৪৪ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ | ১৬:৪৬

বিরোধী দল শুধু সেই সংস্কারের কথাই বলে, যেসব সংস্কার তাদের ক্ষমতার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে। কিন্তু স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার নিয়ে তারা কখনোই আলোচনা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল প্রায়ই সংস্কার ও জুলাই সনদের কথা বলে। কিন্তু স্বাস্থ্যখাতে যে সংস্কার প্রয়োজন, তা নিয়ে তারা একদিনও কথা বলেনি। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন দিয়েছে। বিরোধী দল সেটি নিয়ে সংসদে আলোচনা করলে সরকার আরও উৎসাহিত হতো।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তনের পর গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে।

স্বাস্থ্যখাতের বাজেট প্রসঙ্গে ডা. এম এ মুহিত বলেন, এ বাজেটের মূল লক্ষ্য ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা পাবে। তিনি জানান, গত অর্থবছরের ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ শুধু হাসপাতাল নির্মাণ নয়; এটি মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি অসংক্রামক রোগের বিস্তার, মহামারি মোকাবিলা, দ্রুত নগরায়ণ, চিকিৎসা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ রোগীদের নিজস্ব পকেট থেকে বহন করতে হয়, যা থাইল্যান্ডে ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য অপরিকল্পিতভাবে হাসপাতাল নির্মাণ নয়; বরং স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার, জনবল উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, বিকেন্দ্রীকরণ এবং কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। নগর ও গ্রামের মানুষের জন্য সমমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে ভিত্তি করে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে, যাতে মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।

আরও পড়ুন

×