ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

আমার নিয়োগ বিধিবহির্ভূত হলে প্রশাসনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত: এ বি এম আব্দুল্লাহ

আমার নিয়োগ বিধিবহির্ভূত হলে প্রশাসনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত: এ বি এম আব্দুল্লাহ
×

ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ (ফাইল ফটো)

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ২১:০৩ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ | ২১:১২

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসারে হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ সমকালকে বলেন, ‘যদি বিধিবহির্ভূত হওয়ায় আমার নিয়োগ বাতিল করা হয়, তাহলে যে প্রশাসন আমাকে নিয়োগ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ 

তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মিত থাকারও অভিযোগ করেছে বিএমইউ কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। বর্তমানে আমি একটি বই লিখছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কক্ষে বসেই সেই কাজ করছি।’ 

এর আগে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামালের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডা. আব্দুল্লাহর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি। বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বি এম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টির পটভূমি তুলে ধরেছে। নথিপত্র পর্যালোচনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক, প্রক্রিয়াগত ও আর্থিক বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ৬৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ ও ৮৫তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ বি এম আব্দুল্লাহকে তিন বছরের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় তাঁকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানী, চিকিৎসা সুবিধা ও সীমিত প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়া হতো। নির্ধারিত মেয়াদের এ নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনের কোনো আপত্তি ছিল না বলেও জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, ডা. আব্দুল্লাহর নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগে ২০২৪ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ সংশোধন করে আজীবন নিয়োগের বিধান যুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়। এতে ডা. আব্দুল্লাহর জন্য অবসরের সময়কার অধ্যাপকের বেতন-ভাতার সমপরিমাণ মাসিক সম্মানী, আজীবন চিকিৎসা সুবিধা, অফিস, জনবলসহ অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণ করা হয়।

বিএমইউর বিবৃতিতে বলা হয়, বাজেট অধিবেশনের মূল এজেন্ডার বাইরে এ ধরনের প্রস্তাব আনা ছিল নজিরবিহীন এবং বিধিবহির্ভূত। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, এর মাধ্যমে একজনকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়। এ খাতে তিনি এ পর্যন্ত আনুমানিক ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের প্রস্তাব, ডিনের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন, মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশসহ নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ডা. আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু একজন সদস্যের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাঁকে আজীবন নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, গত প্রায় দুই বছরে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত হননি, শিক্ষাদান বা গবেষণা-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পর্কেও প্রশাসনকে অবহিত করেননি। তবে এ সময়ে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা নিয়েছেন।

বর্তমান প্রশাসনের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগের নজির থাকলেও আজীবন পূর্ণকালীন অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতনের সমপরিমাণ সুবিধা প্রদানের নজির পাওয়া যায়নি। 

বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, গত ১৩ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে ২০২৪ সালের ২৪ জুনের আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত বিবেচনায় বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সামগ্রিক বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।

উল্লেখ্য, চিকিৎসাখাতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ ২০১৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। 

করোনাভাইরাস মহামারির সময় জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকার জন্য তিনি ‘কোভিড হিরো’ পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর লেখা ‘শর্ট কেইস অব ক্লিনিক্যাল মেডিসিন’ বইটির জন্য ২০১৩ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পুরস্কার পান। চিকিৎসাশিক্ষার জন্য তিনি মোট ১০টি বই লিখেছেন। এর মধ্যে সাতটি বই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তিনটি বই দেশের মেডিকেল শিক্ষায় পাঠ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×