পাচারের আগেই উদ্ধার বিপন্ন প্রায় মায়াহরিণ
ছবি: সমকাল
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ২১:১৯
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ভোলারজুম গ্রামের একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতির একটি মায়াহরিণ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। সেখানে কে বা কারা হরিণটি দড়ি দিয়ে পা বেঁধে ফেলে রেখেছিল।
গত শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হরিণটি উদ্ধার করে বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। পরে সেটিকে নিরাপদে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। বন বিভাগের ধারণা, হরিণটিকে জবাই করে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পরিবেশকর্মী ওমাইয়া ফেরদৌস বলেন, রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এখানে প্রাকৃতিকভাবে মায়াহরিণসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বসবাস। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বনাঞ্চলে মানুষের অনুপ্রবেশ, খাদ্য সংকট এবং চোরা শিকারির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। শিকারি চক্র ফাঁদ পেতে মায়াহরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী ধরে পাচারের চেষ্টা করছে।
বন বিভাগ জানায়, চুনারুঘাটের ভোলারজুম গ্রামের ইয়াকুত মিয়ার বাড়ির একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে দড়ি দিয়ে পা বাঁধা অবস্থায় হরিণটি উদ্ধার করা হয়। এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় থাকায় প্রাণীটি শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। রেসকিউ সেন্টারে বর্তমানে হরিণটি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
কালেঙ্গা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, উদ্ধার হওয়া মায়াহরিণটি বর্তমানে তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক আচরণে ফিরে এলে সেটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।
চুনারুঘাট বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল জাহির মিয়া বলেন, লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে এলে দ্রুত বন বিভাগ বা পুলিশকে জানানো উচিত। আহত প্রাণীকে নিজেরা চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞদের হাতে তুলে দেওয়াই নিরাপদ। এভাবে হরিণকে পা বেঁধে আটকে রাখা অত্যন্ত অমানবিক ও আইনবিরোধী।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী জানান, বন্যপ্রাণী আটক, শিকার বা অবৈধভাবে সংরক্ষণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
