ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

ভারতীয় হাইকমিশনারের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল: সংসদে নাহিদ ইসলাম

ভারতীয় হাইকমিশনারের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল: সংসদে নাহিদ ইসলাম
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ২১:৫৯

আওয়ামী লীগকে ১৬ বছর ক্ষমতায় রাখতে সহায়তা, বাংলাদেশে গণহত্যা ও হাদি হত্যার খুনিদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। 

রোববার জাতীয় সংসদে বাজেটে আলোচনায় তিনি বলেন, ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার প্রবেশ করেই ভারতের আকাশ-জমি, বাংলাদেশের আকাশ-জমির সাথে মিলিয়ে ফেলেছেন। মিষ্টি কথায় চিড়া ভিজে না। ১৬ বছরের কথা ভুলে যাইনি। নতুন হাইকমিশনারের উচিত ছিল ক্ষমা চাওয়া। ১৬ বছরে বাংলাদেশে যে প্রত্যক্ষভাবে এবং পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে সহায়তা করেছে ভারত সরকার, তার জন্য ক্ষমা চাওয়া। এখানে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল এবং এখনো সেই গণহত্যার হত্যাকারী ওসমান হাদি হত্যাকারীকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের নাশকতা করছে আওয়ামী লীগ। তার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনারকে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। 

বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বক্তব্য উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় হুইপ চিফ নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার আসার পরে সীমান্তে ১০জন বাংলাদেশিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী (বিএসএফ) হত্যা করেছে। বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে পুশইন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বাজেট অধিবেশেনে পুশইন নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জানি না কোন কারণে, আলোচনাটা করতে দেওয়া হয়নি। এখানে সমালোচনা-প্রশংসা এত কথা হল কিন্তু আমরা কি এক ঘণ্টা বের করতে পারতাম না, এটা নিয়ে আলোচনা করার জন্য। বিএনপির নামের সঙ্গে জাতীয়তাবাদ শব্দটা আছে। 

সীমান্তে প্রতিরোধে বিজিবিকে সাধুবাদ জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে দেশের ১৮ কোটি জনগণ রয়েছে। 
 
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে লাগামহীন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তার ঔদ্ধত্যের জবাব বাংলাদেশ সরকারকে দিতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দিতে হবে। কঠোর জবাব আশা করছি। ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না পূর্ববঙ্গের কৃষকের টাকায় কলকাতা শহর তৈরি হয়েছিল। ওই শহরে আমরা ১৯৩৭ সালেই বিজয় লাভ করেছিলাম। শ্যামা প্রসাদ মুখার্জীরা সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে কলকাতা ভাগ করেছিল, সে দিবস আজকে নরেন্দ্র মোদিরা পালন করছেন। আমরা জাতীয়তাবাদী সরকারকে সে সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে বলব। ‘বাংলাদেশ ফাস্ট’ এটা যেন মুখে মুখে না থাকে। 

নাহিদ ইসলাম সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দুর্নীতি বন্ধ করুন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। যারা টাকা পাচার করেছে অর্থনৈতিকভাবে লুটপাট করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনুন।

ব্যাংক রেজুলেশন আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা টাকা পাচার করেছিল তাদেরকে আবার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। যারা ঋণ খেলাপি ছিল যারা দেশের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে আর যারা গণহত্যা করেছে তাদের অপরাধ খুব ভিন্ন কিছু দেখি না। এস আলম, শিকদার জেমকন, বেক্সিমকো, নাসা, ওরিয়ন এই ধরনের গ্রুপগুলা যারা এদেশের অর্থ পাচার করেছে সেই সকল ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কী আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন? এস আলমের দুর্নীতির সঙ্গে রাষ্ট্র জড়িত ছিল। ডিজিএফআইকে দিয়ে সে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছে। এখন যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ‘শেয়ার হোল্ডার মানে শেয়ার হোল্ডার’, তাহলে আবার তাকে শেয়ার দিয়ে দিতে পারবেন। কিন্তু সত্যটা হচ্ছে তারা সেই সময় রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করেছে। 

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুবই সৎভাবে সংসদে জাতির সামনে স্বীকার করেছিলেন, নির্বাচনের জন্য আপোষ করে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন। ফলে এই সরকারের অনেক ভালো কথায় কীভাবে বিশ্বাস রাখব? 

আরও পড়ুন

×