ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

প্রদর্শনী

বদ্বীপের বুকজুড়ে সহাবস্থানের নকশা

বদ্বীপের বুকজুড়ে সহাবস্থানের নকশা
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ২১:২৪

স্থাপত্য কি শুধু ইট, বালু আর কংক্রিটের নির্মাণ? নাকি এটি মানুষ, প্রকৃতি ও সমাজের সহাবস্থানেরও একটি ভাষা? সেই প্রশ্নের শিল্পিত উত্তর খুঁজতেই রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে ‘সহাবস্থানের স্থাপত্য: বঙ্গীয় বদ্বীপে জনপরিসরের স্থানিক আখ্যান’ শীর্ষক প্রদর্শনী। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ বদ্বীপাঞ্চলে পরিবেশ-সংবেদনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক জনপরিসরের নতুন ভাবনা তুলে ধরেছে এ আয়োজন।

গত শনিবার বিকেলে বেঙ্গল শিল্পালয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। ব্রিটিশ কাউন্সিলের উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ডব্লিউওডব্লিউ) বাংলাদেশ গ্র্যান্টস প্রোগ্রামের সহায়তায় আয়োজিত প্রদর্শনীটি আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

স্থপতি সায়কা ইকবাল মেঘনা ও শুভ্র শোভন চৌধুরীর নির্মাণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে– একটি মৌলিক দর্শন বদ্বীপের সদা পরিবর্তনশীল প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাতে নয়। তার স্বাভাবিক প্রবাহকে ধারণ করেই গড়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের স্থাপত্য। প্রদর্শনীর প্যাভিলিয়নগুলো বাতাস, বৃষ্টি, আলো ও আর্দ্রতার সঙ্গে যেন নিরন্তর সংলাপে যুক্ত। সেগুলো কেবল প্রদর্শনযোগ্য স্থাপনা নয়, বরং পরিবেশ-সংবেদনশীল নির্মাণচিন্তার জীবন্ত উদাহরণ।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়াই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে দেশের জনপরিসর ও নগর পরিকল্পনায় মৌলিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত পরিকল্পনা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, পরিবেশ ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পুরোনো সিএস ম্যাপ পুনরুদ্ধার এবং দখল হয়ে যাওয়া জনপরিসর উদ্ধারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। বিশেষ বক্তব্য দেন স্থপতি, শিক্ষাবিদ এবং বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটেলমেন্টসের মহাপরিচালক অধ্যাপক কাজী খালিদ আশরাফ। প্রদর্শনীটির কিউরেটরিয়াল দিকনির্দেশনা দিয়েছেন লুভা নাহিদ চৌধুরী ও শিল্পী ওয়াকিলুর রহমান।

আরও পড়ুন

×