ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ মৃত্যু

ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ মৃত্যু
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ২১:১৭

দেশে চলতি বছর ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে পাঁচজন। এর আগে চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম বিভাগে এবং একজন করে ময়মনসিংহ বিভাগ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে এক কিশোরীসহ তিনজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। এর মধ্যে শুধু জুনেই ১৩ জন মারা গেছে, যা জনস্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ফলে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯২৪। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৫ হাজার ৪৫৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১০০ জন। শুধু জুনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৭২৭ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৭ জন বরিশাল বিভাগে। চট্টগ্রামে ২৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৭ জন ও উত্তর সিটিতে ১৬ জন, খুলনায় ১৪ জন, রাজশাহীতে ৮ জন এবং ময়মনসিংহ ও ঢাকা মহানগরের বাইরে দুজন করে রোগী ভর্তি হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী সমকালকে বলেন, জুনেই মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা উদ্বেগজনক ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে, তবে এখন মৌসুমি ধারা পরিবর্তিত হচ্ছে। শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণে জোর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, জ্বর হলেই অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে উচ্চ জ্বর, শরীরে ব্যথা, বমি বা দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রতিটি মৃত্যু ছিল প্রতিরোধযোগ্য। এবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার আগাম প্রস্তুতির কথা বলছে। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ না করে গতানুগতিক পন্থা অবলম্বন করালে এই মৃত্যু এড়ানো সম্ভব নয়। জুনে যেহেতু আক্রান্ত মৃত্যুর হার বাড়ছে, সেহেতু এখন থেকে এডিস মশা নিধনের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, ছোট ছোট জলাধার এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্বাভাবিক আবহাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণতা ও দ্রুত নগরায়ণের কারণে সংক্রমণ আগেভাগে শুরু হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×