টেকনাফে পল্লিচিকিৎসককে অপহরণের ৩০ ঘণ্টা পরও সন্ধান মেলেনি
ছবি-এআই দিয়ে তৈরি
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ২২:২৯
কক্সবাজারের টেকনাফে দিনের আলোয় অস্ত্রের মুখে পল্লিচিকিৎসক কামাল উদ্দিনকে অপহরণের ৩০ ঘণ্টা পার হলেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। গত রোববার দুপুরে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী জুম্মাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অপহৃত চিকিৎসকের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুর ১টার দিকে পাহাড় থেকে এক দল সশস্ত্র ব্যক্তি নোয়াখালী জুম্মাপাড়ায় নেমে আসে। তারা বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে চিকিৎসক কামাল উদ্দিনকে অপহরণ করে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাণভয়ে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
নোয়াখালী জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাকের বলেন, ‘আমার বাড়ির আশপাশের অন্তত ১০টি পরিবার ঘরে তালা ঝুলিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। গুলি ও অপহরণের আতঙ্কে আরও অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এখানে মানুষের নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই। মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়ছে।’
বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, সর্বশেষ পল্লিচিকিৎসক কামাল উদ্দিনকে দিনের আলোয় অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এখন আরও অনেক পরিবার এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভয় ও অনিশ্চয়তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমিও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, রাত-দিন গোলাগুলি ও অপহরণের ঘটনায় মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে। অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। দ্রুত যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের তথ্য বলছে, টেকনাফের পাহাড়ঘেঁষা জনপদে অপহরণ, মুক্তিপণ ও সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত তিন বছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩২০ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গত এক বছরেই ১৫টি ঘটনায় ১৫৫ জনকে অপহরণ করা হয়। অধিকাংশ ভুক্তভোগীই পরিবারের দেওয়া মোটা অঙ্কের মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে এসেছেন।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, অপহৃত কামালকে উদ্ধারে আমাদের অভিযান চলছে। আমরা অপহরণকারীদের ধরতে অভিযান চলমান রেখেছি। তবে এলাকার লোকজনের অন্যত্র চলে যাওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।
জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, বাহারছড়ায় অপহরণ ও সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে বড় পরিসরে যৌথ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। খুব শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
