ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

আমানতকারীদের বিক্ষোভ

৫ ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন চালু না হলে কঠোর কর্মসূচি

৫ ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন চালু না হলে কঠোর কর্মসূচি
×

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ২১:০৯

‘হেয়ার কাট’ নীতি বাতিল, জমা অর্থ ও চুক্তি অনুযায়ী মুনাফা পরিশোধ এবং শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন চালুর দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা। সমাবেশ থেকে দাবি পূরণ না হলে শাখা পর্যায়ে অবস্থান কর্মসূচি, ব্যাংক কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম বিভাগ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দিলে তারা নগরের নিউমার্কেট মোড়ে গিয়ে সমাবেশ করেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি বছরের ২১ জানুয়ারির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা সমন্বয় করে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে লাখো আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব ব্যাংকের অধিকাংশ গ্রাহক অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, প্রবাসী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের সঞ্চয় উত্তোলন করতে না পারায় চিকিৎসা, সন্তানের লেখাপড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে চরম সংকটে পড়েছেন তারা।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারী নিশান চৌধুরী বলেন, পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবেই ব্যাংকে টাকা রেখেছিলাম। কিন্তু এখন নিজের জমানো টাকা তুলতে না পেরে বিপদে আছি।

এক্সিম ব্যাংকের আমানতকারী আবুল কালাম বলেন, ব্যাংকে অর্থ জমা রাখা কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ নয়; এটি একজন নাগরিকের নিরাপত্তার বিশ্বাস। কিন্তু প্রয়োজনের সময় নিজের সঞ্চয় ব্যবহার করতে না পারা অত্যন্ত হতাশাজনক।

আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে স্বাভাবিকভাবে অর্থ উত্তোলন করতে না পারায় পাঁচ ব্যাংকের প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী ও তাদের পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো, হেয়ার কাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী মূল আমানত ও অর্জিত মুনাফা পরিশোধ, পাঁচ ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন চালু, তারল্য সংকট নিরসনে বিশেষ সহায়তা, মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ এবং নতুন ঘোষিত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে আগের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি শারমিন আক্তার বলেন, সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আরও পড়ুন

×