কৃষিতে বাজেট-ভর্তুকি কমায় খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে
খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের গবেষণা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৬ | আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ ও ভর্তুকি ধারাবাহিকভাবে কমছে। এর ফলে দেশে খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নতুন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, কৃষকের কমে যাওয়া মুনাফা, জ্বালানি সংকট ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগের মধ্যে কৃষিতে সরকারি সহায়তা কমে যাওয়ায় আগামী দিনে খাদ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।
গতকাল শনিবার খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের (খানি বাংলাদেশ) প্রকাশিত ‘এগ্রিকালচারাল বাজেটিং ইন বাংলাদেশ: ট্রেন্ডস, প্রায়োরিটিস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক আউটলুক’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক খাদ্য নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। উচ্চ খাদ্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে এবং প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হলো কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি। কিন্তু দেশের কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ভবিষ্যৎ খাদ্য সরবরাহের জন্য উদ্বেগজনক।
প্রতিবেদন বলছে, বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কৃষি উৎপাদন ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে, চলতি বছরের হাওরের আগাম বন্যায় হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, আগাম বন্যা ও কমে যাওয়া ভর্তুকির বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ নিকট ভবিষ্যতে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তা সংকট এবং উচ্চ খাদ্যমূল্যের মুখোমুখি হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটের ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ কৃষি খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশে। একই সময়ে কৃষি ভর্তুকির অংশ ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে।
গবেষকরা বলছেন, দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তবে কৃষি খাতের বাজেট ও ভর্তুকি জাতীয় বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়েনি। ফলে কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি বাজেট আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, কৃষকের কমে যাওয়া মুনাফা ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মধ্যে এ ধরনের বাজেট সংকোচন ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে।
গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, কৃষি খাতে বিনিয়োগ ও সহায়তা না বাড়ালে খাদ্য উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়বে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারে খাদ্যের দামে। একই সঙ্গে কৃষির আধুনিকায়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হবে।
- বিষয় :
- কৃষি
