পুকুরে বিদ্যুতের ছেঁড়া তার দুই শিশুর করুণ মৃত্যু
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে ছিল পুকুরে। ফুটবল খেলা শেষে সেখানেই গোসলে নেমেছিল তিন মাদ্রাসাছাত্র। এ সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হয় তারা। উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। অন্যজন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন। গত রোববার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ঘটে মর্মান্তিক এ ঘটনা।
একই দিন বিকেলে নওগাঁর রাণীনগরে পুকুর খননকাল এক্সক্যাভেটরের ধাক্কায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে মারা যায় রবিউল (৫) নামের এক শিশু। একই উপজেলায় গতকাল সোমবার দুপুরে বালতির পানিতে ডুবে প্রাণ গেছে সাহানাজ পারভিন শিফা (২) নামে এক শিশুর। গত রোববার রাতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর একটি ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে আরও দুই শিশুর লাশ।
খেলা শেষে গোসলে নেমে মৃত্যু
আশুগঞ্জের দুর্গাপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের খন্দকার বাবুল শাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় পড়ত মো. চাঁন বাদশা (৯) ও মো. রিয়ান নিয়াজ (১১)। অন্য বন্ধুদের সঙ্গে রোববার বিকেলে মাদ্রাসার পাশের মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। খেলা শেষে কয়েকজন নামে পাশের পুকুরে গোসলে। তাদের জানা ছিল না, ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পুকুরটি বিদ্যুতায়িত হয়ে আছে।
শিশুরা বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক সংযোগ বন্ধ করে তাদের উদ্ধার করেন। দ্রুত তাদের নেওয়া হয় আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। চিকিৎসক চাঁন বাদশা ও রিয়ান নিয়াজকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মো. রাহীমকে (১৩) পাঠানো হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে।
চাঁন বাদশার বাড়ি চরচারতলা ইউনিয়নের মহরম পাড়ায়। তার বাবা আলম মিয়া সৌদি আরব থাকেন। বাদশার চাচাতো ভাই সোহেল মিয়া বলেন, মা-বাবার খুব আদরের সন্তান ছিল চান বাদশা। সবার ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে হাফেজ ও আলেম হবে। কিন্তু সে ইচ্ছা পূরণ হলো না।’ গতকাল সোমবার সকালে বাড়িতে দাফন করা হয় এ শিশুকে।
নিহত অন্য শিশু মো. রিয়ান নিয়াজ তালশহর (পশ্চিম) ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার নাছির নিয়াজের ছেলে। এ ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আক্তার হোসেন বলেন, গতকাল সকালে জানাজার পর রিয়ানের দাফন হয়েছে। ছেলেটির মা প্রায় সাত বছর আগে বিষপানে আত্মহত্যা করেন। এ মামলায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন তার বাবা। ছেলেটি মানুষ হয়েছে চাচার কাছে। জানাজায় তাঁর চাচার কান্নায় সবার চোখে জল চলে আসে।
আশুগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হেনা মো. মোস্তাফ রেজা বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
রাণীনগরে দুই শিশুর মৃত্যু
পুকুর খননকালে এক্সক্যাভেটরের বাকেটের ধাক্কায় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে রাণীনগরে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছে রবিউল ইসলাম (৫) নামের শিশুটি। গত রোববার বিকেলে মিরাট ইউনিয়নের ধনপাড়া পূর্বপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে গতকাল সোমবার সকালে ময়নাতদন্তে পাঠায়। এ ঘটনায় রবিউলের বাবা ময়নুল হক রাতে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এদিকে গতকাল দুপুরে উপজেলার আবাদপুকুর বাজার উত্তরপাড়ায় বালতির পানিতে ডুবে মারা যায় সাহানাজ পারভিন শিফা (২)। সে গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে। শিশুর চাচা আব্দুল কাদের বলেন, শিফার মা বাড়িতে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর অজান্তে শিশুটি গোসলখানায় গিয়ে বালতিতে রাখা পানি নিয়ে খেলার সময় উপুড় হয়ে পড়ে যায়। খোঁজাখুঁজির পর বালতিতে তার লাশ পাওয়া যায়।
নালায় মিলল দুজনের লাশ
বাড়ি পাশাপাশি, সম্পর্কেও চাচাতো বোন লুশি খাতুন (৯) ও আরশি খাতুন (৮)। তারা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার রাবাইতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। রোববার বিকেলে এক সঙ্গে বাড়ি ফিরে তারা। পরে আবার খেলতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির পাশের কুচনিরপাড় ডারা নামের একটি নালায় পাওয়া যায় শিশু দুটির মরদেহ। এ সময় একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিল লুশি-আরশি। লুশি ভাঙ্গামোর ইউনিয়নের রাবাইতারী নওদাবস মধ্যবর্তী গ্রামের নুর হোসেনের মেয়ে। আরশির বাবার নাম আনিছুর রহমান। শিশু দুটির চাচা হজরত আলী বলেন, সম্পর্কে তারা চাচাতো বোন। তাদের করুণ মৃত্যুতে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।
- বিষয় :
- মৃত্যু