ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

মিরপুরে পানির সংকট কাটছে না

মিরপুরে পানির সংকট কাটছে না
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় পানির সংকট কাটছে না। গত ২০ জুন থেকে সংকট চললেও এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো বাড়তি কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। পাইপলাইনে চাহিদামতো পানি আসছে না। এমনকি গাড়িতে সরবরাহের চাহিদাপত্র দিয়েও প্রয়োজনীয় পানি মিলছে না। 

সাভারের ভাকুর্তায় স্থাপিত ঢাকা ওয়াসার ওয়েলফিল্ড প্লান্ট ও মিরপুরে স্থাপিত গভীর নলকূপ থেকে বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার পর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপগুলোতে পানির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়। এ ছাড়া প্রতিবছরই রাজধানীর পানির স্তর তিন মিটার নিচে নামছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন। গত ২০ জুন হঠাৎ করে ভাকুর্তা ওয়েলফিল্ড প্লান্টের পানি উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ে। 

গত ২৮ জুন শেওড়াপাড়ার বাসিন্দারা পানির দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। কাজীপাড়ার বাইশবাড়ী এলাকার জাহানারা আক্তার গতকাল সোমবার জানান, ‘দুই মাস ধরে পানির সমস্যা চলছে। ছেলেমেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। গোসলও করাতে পারছি না। নতুন লাইন দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল, সব সময় পানি থাকবে। কিন্তু কোনো কোনো সময় একদমই পানি থাকে না।’

পীরেরবাগ রোডের ২৯৪ নম্বর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মিলন বলেন, ‘১০ দিন ধরে পাইপলাইনে কোনো পানি পাইনি। অনেক কষ্ট করে দু-এক গাড়ি পানি নিয়েছি। কিন্তু সেটা পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। ভারী বৃষ্টি হলে সংকট কিছুটা কমে। আবার দু-এক দিন বৃষ্টি না হলে সংকট বেড়ে যায়।’ একই রকম অভিযোগ করেন আরও অনেকে। 
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ঢাকা ওয়াসার দুটি আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। একটি  কার্যালয় বাংলা কলেজের পাশে। আরেকটি ১০ নম্বর গোলচত্বরের পূর্বপাশে। এ দুটি কার্যালয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ধরনা 
দেন গাড়িতে করে পানি পাওয়ার জন্য। 

জানা গেছে, দুটি কার্যালয়ে প্রতিদিন গড়ে ছয়শরও বেশি গাড়ির চাহিদা দিচ্ছেন এলাকাবাসী। কিন্তু একেকটি কার্যালয় থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০০ গাড়ি পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। 
ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা জানান, তাদের ব্যর্থতার কারণে যদি গ্রাহক পানি না পান, তাহলে বিনামূল্যে গাড়িতে করে পানি সরবরাহ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু গাড়িতে করে যারা পানি নেন, তাদের কাছ থেকেও ওয়াসা দাম নিচ্ছে। এক গাড়ি পানির দাম ৪০০ টাকা। তবে গ্রাহকের কাছ থেকে বেশি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। 
এদিকে প্রতিদিন ঢাকা ওয়াসা পানি উৎপাদন সক্ষমতার যে হিসাব কাগজ-কলমে করছে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। তারা বলছে, ঢাকা ওয়াসার বর্তমানে দৈনিক ২৯৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। বিপরীতে চাহিদা প্রতিদিনই এর চেয়ে ৫০-৬০ কোটি লিটার কম। কাজেই পানির কোনো 
সংকট নেই। 

উৎপাদনের এমন হিসাব থাকলেও মিরপুর এলাকায় পানির সংকট কেন, জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘অনেক কারণে ওই এলাকায় পানির সংকট হয়েছিল। কিন্তু আমরা সংকট কাটিয়ে উঠেছি। আগে প্রতিদিন আড়াইশ গাড়ি পানি সরবরাহ করতে হতো। তা কমে অর্ধেকেরও নিচে চলে এসেছে। বৃষ্টি না হলেই পাম্পগুলোতে পানির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। একটি পাম্প থেকে প্রতি মিনিটে ২২শ থেকে ২৪শ লিটার পানি পাওয়ার কথা, কিন্তু তা ৮০০ লিটারে নেমে আসছে। এ ছাড়া ভাকুর্তার প্লান্ট ঠিক হয়ে গেছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে একটু সমস্যা হচ্ছে পূর্ব কাজীপাড়া, পূর্ব শেওড়াপাড়া ও কাফরুল এলাকায়। ওখানে কিছু লোক পাইপলাইন কেটেকুটে পানির ব্যবসা করে। এ কারণে লাইনে ময়লা-আবর্জনা ঢুকে পানি দূষিত হয়ে যাচ্ছে।’ 
তিনি আরও বলেন, ‘কিছুদিন আগে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এবং জামায়াতের আমির এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারা পাম্প 
বসানোর জায়গার জন্য টাকা দিতে চেয়েছেন। জমি পেলে কয়েকটি পাম্প বসিয়ে দিলে আর সমস্যা থাকবে না। তবে স্থায়ী সমাধানে যেতে মেঘনা নদী থেকে পানি আনার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’

আরও পড়ুন

×