ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধস

১৫ ঘণ্টায় রোহিঙ্গা নারী ও শিশুসহ নিহত ১০

কক্সবাজারেই ১৯ বছরে ৩৭০ প্রাণহানি 

১৫ ঘণ্টায় রোহিঙ্গা নারী ও শিশুসহ নিহত ১০
×

উখিয়ায় পাহাড়ধসে চাপা পড়া মানুষজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের তৎপরতা। গতকাল সোমবার সকালে তোলা সমকাল

ইব্রাহিম খলিল মামুন, কক্সবাজার

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৫ | আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাত ১টার পর উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া কক্সবাজার শহর ও পেকুয়ায় আরও দুটি পাহাড় ধসে পড়ে। 

পাহাড়ধসে গত ১৯ বছরে কক্সবাজারে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭০-এ। এর পরও পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস থেমে নেই। ফলে মাটিচাপা পড়ে প্রতিবছর হতাহতের ঘটনা ঘটছে। তথ্য বলছে, এখনও সাড়ে ১৬ হাজার একর পাহাড় দখল করে ঝুঁকিতে বাস করছেন প্রায় চার লাখ মানুষ, যা কক্সবাজারের মোট বনভূমির এক-তৃতীয়াংশ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভারী বর্ষণ হলেই পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন। অন্য সময়ে তদারকি আর চোখে পড়ে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার রাত ১টা থেকে সোমবার বিকেল ৪টার মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ নম্বর বালুখালী ও ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটে এসব দুর্ঘটনা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা চালান উদ্ধার অভিযান।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন– কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯), মোহাম্মদ আনাস (৪); একরাম (৭); উম্মে হাবিবা (২৭), তাঁর বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫), হারুনুর রশিদ (৩), আলী আকবর (৫০) ও মোহাম্মদ মিনহাজ। 

উখিয়ার ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) পরিদর্শক শুভেন্দু চ্যাটার্জি জানান, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে শরণার্থী শিবিরজুড়ে পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

১৯ বছরে ৩৭০ প্রাণহানি

সরকারি কয়েকটি দপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৯ বছরে পাহাড়ধসে ৩২৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর বাইরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাহাড়ধসে মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পাহাড়ধস হয় ২০১০ সালের ১৫ জুন। এদিন রামুর হিমছড়ি এলাকার ১৭ ইসিবি সেনা ক্যাম্পের ছয় সেনা সদস্যসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে ৬২ জন প্রাণ হারান। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাহাড়ধসে ২০০৮ সালে ১৩ জন, ২০০৯ সালে পাঁচ, ২০১২ সালে ২৯, ২০১৫ সালে পাঁচ, ২০১৬ সালে ১৭, ২০১৭ সালে ২৬, ২০১৮ সালে ২৮, ২০১৯ সালে ২২, ২০২০ সালে ২৯, ২০২২ সালে ২৫, ২০২৩ সালে ছয়, ২০২৪ সালে ১০ এবং চলতি বছরে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১১ জন। 

চট্টগ্রাম-রাঙামাটিতেও পাহাড়ধসের ভয়

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামেও পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে পাহাড়-সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছেন। মাইকিং করে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানালেও এখন পর্যন্ত কেউ তা আমলে নেয়নি। 

আরও পড়ুন

×