মৎস্যজীবী সংগঠনের সমবায় কমিটি বাতিলের আবেদনে জালিয়াতি
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের নিবন্ধিত মৎস্যজীবীদের সংগঠন ধুলিয়া সাতবিলা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির নবগঠিত কমিটি বাতিলের আবেদন নিয়ে ব্যাপক টানাপোড়েন চলছে।
জানা গেছে, কমিটি বাতিলের দাবিতে জমা দেওয়া ১৭৩ জনের গণস্বাক্ষরিত আবেদনে জালিয়াতি করা হয়েছে। তালিকা অনুসন্ধানে দেখা যায়, সেখানে এমনও ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে যাঁরা আরও আগেই মারা গেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সমবায় কর্মকর্তার দুটি পৃথক তদন্তে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী মতামত আসায় বিষয়টি এখন বিভাগীয় পর্যায়ে গড়িয়েছে; যা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে চলছে টানাপোড়েন।
২০০৪ সালে নিবন্ধিত চার শতাধিক সদস্যের নিবন্ধিত মৎস্যজীবীদের সংগঠন ধুলিয়া সাতবিলা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটি গত বছরের ডিসেম্বরে গঠন করা হয়। এরপর থেকেই কমিটির একাংশ এর বিরোধিতা শুরু করে।
নথি ও কাগজপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে গঠিত কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন সদস্য ওসমান খান, আব্দুস সালামসহ ১৭৩ জন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা সমবায় কার্যালয়ের উপ-সহকারী নিবন্ধক জামাল মিয়া তদন্ত শেষ করে গত ১১ মার্চ প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ডিসেম্বর মাসের নির্বাচনে সব সদস্যকে অবগত করা হয়নি এবং নির্দিষ্ট বিধি অনুসরণ করা হয়নি। এর ওপর ভিত্তি করে তিনি কমিটিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন।
প্রথম তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ১৩ এপ্রিল জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে আপিল করেন বর্তমান কমিটির সদস্য আব্দুল কাদির। আপিলে তিনি দাবি করেন, কমিটি বাতিলের আবেদনে অনেক সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা
হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে ১৫ থেকে ২০ জন মৃত ব্যক্তির ভুয়া স্বাক্ষর।
এই আপিলের পর জেলা সমবায় কর্মকর্তা রহিম উদ্দিন তালুকদার ঘটনাটি পুনঃতদন্তের জন্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আক্তার হোসেন গত ৩ মে যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন, তাতে জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৬ ফেব্রুয়ারির আবেদনের তালিকায় থাকা ৪২ জন আদতে সমিতির সদস্যই নন, ১৭ জন সদস্য অভিযোগ দায়েরের অনেক আগেই মারা গেছেন এবং আরও ৯ জন সদস্য আবেদনে কোনো স্বাক্ষরই করেননি।
এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর জেলা সমবায় কর্মকর্তা ৭ মে এক অফিস আদেশে জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারির অভিযোগটি সুস্পষ্ট জালিয়াতি এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগটি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় তা খারিজ করে দেওয়া হয়।
- বিষয় :
- মৎস্যজীবী