ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

কাশিয়ানীতে শিশু অপহরণের পর হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড 

কাশিয়ানীতে শিশু অপহরণের পর হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড 
×

ফাইল ছবি

আদালত প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৪৯

১৪ বছর আগে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে আট বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যা মামলায় পলাতক ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পলাতক তিন ভাই জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পলাতক মাহমুদা খানম উষা ও বিল্লাল শেখ। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সাব্বির ওরফে রাজীবের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বলেন, আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 

আদালত রায়ে বলেন, এটি কেবল একটি হত্যা মামলা নয়; বরং মানুষের রূপধারী কিছু অপরাধীর হিংস্রতার শিকার এক নিষ্পাপ শিশুর মর্মান্তিক পরিণতির দলিল। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, শবে বরাতের রাতে নামাজ পড়তে বের হওয়া আট বছরের মাহফুজকে অপহরণ করে মুক্তিপণের লোভে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখা হয়। পরে অর্থ না পেয়ে নির্মমভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ মেহগনি বাগানে ফেলে দেওয়া হয়। আদালত আরও বলেন, এ ধরনের নৃশংস ও পাশবিক অপরাধ সমাজে আর কেউ যাতে করার সাহস না পায়, সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়েছে। 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে আট বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করে আসামিরা। পরে তারা ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেয়ে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখার পর ওই বছরের ২০ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখা হয়।
 
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা রেজাউল ইসলাম ইতালি প্রবাসী ছিলেন এবং আসামিদের সঙ্গে তাদের পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার পর ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নিজাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত মঙ্গলবার তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

আরও পড়ুন

×