বিমানবন্দরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ৩১ লাখ টাকা আত্মসাৎ, যুবক গ্রেপ্তার
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ২১:২১
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রায় ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাঁর নাম ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার। তিনি বিমানবন্দরের অকশন বিভাগের ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে কম দামে আইফোনসহ দামি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য সরবরাহের নামে টাকা হাতিয়ে নেন।
সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযুক্ত ইব্রাহিম হোসেনকে গত রোববার মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস দল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতারণার শিকার ব্যক্তি ঢাকার একটি বেসরকারি জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত। প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা নিজেদের বিমানবন্দরের অকশন বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তারা জানান, বিমানবন্দরের অকশনে জব্দ বা অব্যবহৃত আইফোন, দামি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ মূল্যবান ইলেকট্রনিক পণ্য অত্যন্ত কম দামে বিক্রি করা হবে। পাশাপাশি তাদের অধীনে কর্মরত প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনবীমার পলিসি গ্রহণে আগ্রহী। এসব বলে তারা ভুক্তভোগীর সঙ্গে একটি সম্পর্ক তৈরি করে।
সিআইডি জানায়, পরে প্রতারক চক্র ভুক্তভোগীকে ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয়। ব্যবসার বৈধতা প্রমাণের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল অনুমোদনপত্র, কথিত সরকারি নথি, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ভুয়া নথি, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ জাল কাগজপত্র সরবরাহ করে। এসব নথি দেখে ভুক্তভোগী প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন। এরপর ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল ফোন এবং ৫৪৩টি ল্যাপটপ সরবরাহের কথা বলে বিভিন্ন ধাপে দুটি ব্যাংক হিসাব ও তিনটি এমএফএস অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। টাকা নেওয়ার পর তারা কোনো পণ্য সরবরাহ না করে বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকে এবং এক পর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। প্রযুক্তিগত তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারণার সঙ্গে ইব্রাহিম হোসেনের সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া যায়। অভিযানে তাঁর কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও সাতটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।