আকুর দায় শোধের পরও ৩৬ বিলিয়নের ওপরে রিজার্ভ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ২২:৪০
রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবাহের কারণে স্বস্তিতে রয়েছে ডলার বাজার। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) মে-জুন সময়ের জন্য ১৪৮ কোটি ডলারের বেশি পরিশোধের পরও রিজার্ভ রয়েছে ৩৬ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। দায় শোধের আগে মঙ্গলবার দিনের শুরুতে রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। এর আগে গত মার্চ–এপ্রিলের জন্য আকুতে ১৫১ কোটি ডলার পরিশোধের পর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে রিজার্ভ কমে ৩৪ বিলিয়নের নিচে নেমেছিলো।
আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী– আজ মঙ্গলবার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। আগের দিন সোমবার যা ৩৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার ছিলো। গত ১৪ জুন ৩১ বিলিয়নের ঘর ছাড়িয়েছিলো। আইএমএফের ঋণের শর্ত মেনে ২০২৩ সালের জুন থেকে বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সময় রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। এর বাইরে আইএমএফের পদ্ধতি মেনে প্রকৃত ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ (এনআইআরের) হিসাব করা হয়। সাধারণভাবে যা প্রকাশ করা হয় না। গতকাল এনআইর দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯৩ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্টে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। এরপর রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রির কারণে ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে যায়। তবে অর্থপাচারে কড়াকড়ির ফলে হুন্ডি কমে বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ার কারণে রিজার্ভ বাড়ছে। প্রায় ৪৫ মাস পর গত ২৯ জুন গ্রস রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। আর গত ২৪ জুন রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি বৃদ্ধি ও রপ্তানি কমার মধ্যেও এভাবে রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রধান কারণ রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবাহ। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বস্তি রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ৬ দিনে প্রবাসীরা প্রায় ৭০ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা প্রায় ৬৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন। আগের অর্থবছরের তুলনায় রেমিট্যান্স বেশি ছিলো ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগের অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিলো ৬৪২ কোটি ডলার যা ছিলো প্রায় ২৭ শতাংশ। রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে দীর্ঘদিন ধরে ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় স্থিতিশীল রয়েছে। আবার ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা রিজার্ভ বাড়ছে। পুরো অর্থনীতিকে যা কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে।