‘যে ছেলে একসময় পাখির মতো ছুটে বেড়াত, সে আজ বিছানায় বন্দি’
ছবি: সমকাল
হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ২২:৫৫
‘আমার ৯ বছরের ছেলে, যে একসময় স্কুলে যেত, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করত, পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করত, পাখির মতো ছুটে বেড়াত, সে আজ বিছানায় বন্দি। একজন বাবা হিসেবে এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ হামলায় জড়িতদের বিচার চেয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে কথাগুলো বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে হোমনা পৌর মার্কেটের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান শ্রীমদ্দি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ। তাঁর ছেলে আবু বকরের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।
আব্দুল লতিফ অভিযোগ করেন, শত্রুতার জেরে গত ২৯ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীমদ্দি গ্রামের শফিউল্লাহ, আরিফ, আছমা, তৈয়ব আলী, শাহাদাত ও জুনাইদসহ কয়েকজন আবু বকরের ওপর হামলা চালান। আব্দুল লতিফের দাবি, হামলার সময় শিশুটিকে মারধর, মাটিতে আছড়ে ফেলা এবং ঘাড় ও চোখে গুরুতর আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে আবু বকরকে গৌরীপুরে এবং পরে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার করে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর শিশুটি প্রাণে বেঁচে গেলেও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়েছে এবং তাঁর বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি জানান, ছেলের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে সাত থেকে আট লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর অধিকাংশ অর্থ ঋণ ও ধারদেনা করে জোগাড় করতে হয়েছে।
আব্দুল লতিফ বলেন, সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি। পরে ৭ এপ্রিল কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৪ নম্বর আমলি আদালতে মামলা করেন। তবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সামাজিক বিচারকদের আশ্বাসে মামলার কার্যক্রম আর এগিয়ে নেননি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো সামাজিক বিচার না হওয়ায় তিনি ও তাঁর পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকেই পাওয়া যায়নি।
হোমনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মোল্লা ও হোমনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ মিয়া জানান, কিশোরটিকে যেভাবে পিটিয়েছে তা টাকা দিয়ে পূরণ হবার নয়, স্থানীয় গ্রামবাসী বিচার সালিশ করে তাঁর চিকিৎসার জন্য ১২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে শুনেছেন তিনি, তবে ভুক্তভোগীর পরিবার কোনো টাকা পায়নি।
সালিশে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমদ্দী গ্রামের বাসিন্দা হোমনা পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ। তিনি বলেন, ‘গ্রামের মাতবররা সালিশ বৈঠকে বসেছিলেন। সবাই মিলে একটা টাকা নির্ধারণ করা হলেও কোনো পক্ষই মানেনি। তারপর আমি আর কিছু জানি না।’
- বিষয় :
- কুমিল্লা