পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতিতে ৫ বছরের কারাদণ্ড: সংসদে বিল পাস
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি- সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ২৩:৩৩ | আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ২৩:৩৪
পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস-ডিজিটাল জালিয়াতিতে ৫ বছর কারাদন্ডের বিধান রেখে মঙ্গলবার সংসদে বিল পাস হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর তা আইনে পরিণত হবে। এই বিল অনুযায়ী কোনো শিক্ষক ইচ্ছাকৃত কম বা বেশি নম্বর দিলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদন্ড হবে। একই দিনে সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিল।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন 'পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬' এর বিল সংসদে উত্থাপন করেন। বিরোধীদল জনমত যাচাই ও সংশোধনে প্রস্তাব দেয়। কণ্ঠভোটে তা নাকচ হওয়ার পর বিলটি পাস হয়।
এই বিলের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত 'পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০' সংশোধন করা হয়েছে। নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ এবং পাবলিক পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, বিশেষ করে পরীক্ষার তথ্যভান্ডার হ্যাকিং, অননুমোদিতভাবে তথ্য পরিবর্তন, মুছে ফেলা বা গোপন করার ঘটনায় আইনটি সংশোধন প্রয়োজন।
সংশোধনীতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং বা পরীক্ষার তথ্য বিকৃতিসহ ডিজিটাল জালিয়াতিতে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে। পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংঘবদ্ধ অপরাধের জন্যও নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় পরীক্ষার্থীদের অসাধু উপায়ে সহায়তা করা বা এমন সহায়তার প্রস্তাব দেওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধে ৫ বছরের কারাদণ্ড হবে।
পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের নিষিদ্ধ ঘোষিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে হল বা কেন্দ্রে প্রবেশ কিংবা প্রবেশের চেষ্টা করলে এবং তা ব্যবহারকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব অপরাধেও সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
সংশোধিত আইনে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো পরীক্ষক ইচ্ছাকৃত বেশি বা কম নম্বর দিলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড দেওয়া যাবে। তবে এ ধরনের অপরাধে দণ্ডাদেশ দেওয়ার আগে তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে মূল্যায়নের অসংগতি নিশ্চিত করতে হবে।
পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখা, আইনি দায়মুক্তি এবং প্রতিশোধমূলক হয়রানি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধ করলে সাজা হবে 'শিশু সুরক্ষা আইন, ২০১৩' অনুযায়ী।
মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে সংশোধিত আইনের আওতাধীন সব অপরাধকে আমলযোগ্য করা হয়েছে। মহানগর এলাকায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং মহানগরের বাইরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এসব মামলার বিচার করবেন।
শিক্ষামন্ত্রী মঙ্গলবার ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও পরবর্তী সময়ে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ কাগজেই সীমাবদ্ধ ছিল।
- বিষয় :
- শিক্ষামন্ত্রী
- সংসদ
- বিল পাস