ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল, তদন্ত শুরু
ভিডিও থেকে নেওয়া
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ২১:৪৯
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর নগদ অর্থ গ্রহণের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করছেন তহশিলদার মফিজুল ইসলাম। পরে সেই টাকা গুনে নিজের পকেটে রাখছেন। ভিডিওতে ভূমি অফিসের কাজের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তিকে (দালাল) বিভিন্ন সেবার বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তিনি দাবি করেন, কাগজপত্র ঠিক থাকলে নামজারি (খারিজ) করতে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া চেক কাটা ও অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রেও ২০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়।
জামবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সেবাগ্রহীতা শফিকুল ইসলামকে ঘুষ দিতে দেখা যায়। এ বিষয়টি নিয়ে তাঁর কাছে জানতে চাইলে বলেন, একটি দলিলের খারিজের জন্য তাঁর কাছে প্রথমে ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে দুটি দলিলের জন্য তিনি ৯ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
সাহিন আলী নামের আরেক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। টাকা কম দিতে চাইলে ফাইল আটকে রাখা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. মফিজুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভোলাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানাউল মোর্শেদ জানান, ভিডিওটি তাদের হাতে এসেছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হোসেন বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- ঘুষ
- ভিডিও ভাইরাল
- তদন্ত কমিটি