ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

আপিল বিভাগের রায় 

প্রাথমিকে ৪৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল হবে মেধার ভিত্তিতে

প্রাথমিকে ৪৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল হবে মেধার ভিত্তিতে
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৫৩

তিন বছর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৬ হাজার ৫৩১ প্রার্থীর ফলাফল কোটার পরিবর্তে মেধার ভিত্তিতে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত বিষয়ে করা আপিল শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করে।

একই সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ বহাল রাখেন আদালত। এছাড়া রিটকারী ১৫১ জনকেও আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আইন অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়ার জন্য বলেছেন আপিল বিভাগ। এর আগে মুক্তিযোদ্ধা কোটার ভিত্তিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ ও পরীক্ষা এবং ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, ১৫১ জন রিটকারী প্রার্থী সরাসরি বা ঢালাওভাবে নিয়োগ পাবেন না। আদালত তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা বিবেচনার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পূর্বে ১৫১ জনকে চাকরি দেওয়ার কথা বলা হলেও তা হবে আইন অনুযায়ী। অর্থাৎ, আইন অনুযায়ী কেউ যদি যোগ্য প্রার্থী হয়ে থাকেন ওই ১৫১ জনের মধ্যে, তবেই তাদের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের আজকের এই আদেশটি কার্যকর হবে।

রিটকারীদের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৩ সালের ১৪ জুন তৃতীয়ধাপে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। তখনকার সময়ে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি অনুযায়ী সেখানে ৮৪ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান ছিল। এই বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ করে এবং জুলাই বিপ্লবের পর সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক ঘোষিত ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবি জানিয়ে ১৫১ জন চাকরিপ্রত্যাশী হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ওই রিটের শুনানির পর হাইকোর্ট বিভাগ পূর্বের কোটাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং রিটকারী ১৫১ জনকে নিয়োগ প্রদানের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে সরকার হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগে আবেদন করে। চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল বিভাগ সরকারের সেই আপিল নিষ্পত্তি করে এই রায় দেন। 

ফল পুনর্মূল্যায়নের বিষয়ে এ আইনজীবী বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ওই নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ৪৬ হাজার ১৯৯ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষার ফলসহ পুরো ফলাফল মেধার ভিত্তিতে নতুন করে প্রকাশ করা হবে।

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ বাতিল করা হলে প্রশাসনিকভাবে একটি বড় বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো। সে কারণে আদালত একটি পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের নিয়োগ বহাল রেখেছেন। নতুন করে কারও মামলা করে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ নেই। এই রায়টি সুনির্দিষ্টভাবে বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রযোজ্য হবে। যে বিষয়গুলো ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে, সেগুলো চূড়ান্ত বলেই গণ্য হবে।

আরও পড়ুন

×