ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

বিএনপির নারী এমপিরা কেন বিরোধী দলের আসনের দায়িত্বে: আখতার হোসেন

বিএনপির নারী এমপিরা কেন বিরোধী দলের আসনের দায়িত্বে: আখতার হোসেন
×

এমপি ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ২১:৫৪ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ২২:৩১

বিএনপির সংরক্ষিত নারী এমপিদের কেন বিরোধী দলের আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে- সোমবার সংসদে এ প্রশ্ন তোলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি পয়েন্ট অর্ডারে দাঁড়িয়ে জানতে চান, বিএনপি এর মাধ্যমে একদলীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে কিনা। 

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের নির্বাচনী এলাকা সারাদেশ। তাঁদের প্রাপ্ত বরাদ্দ যেকোনো আসনে দিতে পারেন। তবে তাঁদের নির্দিষ্ট আসন নেই।  

তবে গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভা থেকে বিএনপি নারী এমপিদের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিরোধীদলীয় এমপিদের আসনের উন্নয়ন দেখভালের। জামায়াতে ইসলামীর ৬৮, এনসিপির ৬টিসহ বিরোধী জোট এবং স্বতন্ত্র এমপিদের ৮৫ আসন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া বিএনপির ৩৭ নারী এমপিকে। তাদেরকে আধা সরকারিপত্র (ডিও লেটার) দেওয়ার ক্ষমতাও দিয়েছে সরকার। এ নিয়ে বিরোধীদলের এমপিদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হচ্ছে। 

সোমবার প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির এমপি জীবা আমিনা খান জানান, তিনি সম্প্রতি অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা হিসেবে পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর সফর করেছেন। ওই সফরে স্থানীয় হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনবল সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে পয়েন্ট অর্ডারে বিষয়টি তোলেন। তিনি বলেন, সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ সদস্য যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকাকে নিজের ‘অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত’ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেন, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ওই এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে এমন বক্তব্যও শোনা গেছে যে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের চেয়ে সংরক্ষিত আসনের এমপিই সেখানে কার্যত বেশি ক্ষমতাবান।

আখতার বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের কাউকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু সংসদে একজন সদস্য নিজেই অতিরিক্ত দায়িত্বের কথা বলেছেন। 

আখতারের ভাষ্য, বিরোধী দলের আসনে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী এমপিদের সক্রিয় করা হলে রাজনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি সরকারের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করেন।

পরে ডেপুটি স্পিকারের আহ্বানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বললেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের জন্য কোনো পৃথক ভৌগোলিক নির্বাচনী এলাকা নেই। সংবিধান অনুযায়ী তারা পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। 

সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরাও অন্যদের মতো পূর্ণাঙ্গ সংসদ সদস্য মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা থেকে তারা যে বরাদ্দ পান, তা বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে দিতে পারেন। চাইলে কক্সবাজারে বরাদ্দ দিতে পারেন, আবার বাঁশখালী বা সাতকানিয়াতেও দিতে পারেন। 

সংরক্ষিত নারী আসনের কোনো এমপিরা কোনো আসনকে ‘আমার এলাকা’ হিসেবে উল্লেখ করলে তিনি নিজেই নিজের কার্যপরিধি সীমিত করা বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, তাদের বলা উচিত, পুরো বাংলাদেশই তাদের এলাকা। নির্দিষ্ট এলাকার দায়িত্ব বা সুনির্দিষ্ট আঞ্চলিক সীমানার ধারণা সংরক্ষিত নারী এমপিদের জন্য প্রযোজ্য নয়। 

আরও পড়ুন

×