ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

নেপালি তরুণদের দ্রুত মোহমুক্তির নেপথ্যে 

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আবার রাজপথে জেনজি

নেপালি তরুণদের দ্রুত মোহমুক্তির নেপথ্যে 
×

ছবি : সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০১:৪৯ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০১:৫০

নেপালে গত বছর তরুণদের বিক্ষোভে সরকার পতনের পর নির্বাচনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন বলেন্দ্র (বলেন) শাহ। বলা হচ্ছে, তরুণ প্রজন্মের ম্যান্ডেট নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন সাবেক এই র‍্যাপার। তবে বলেন শাহ ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় সেই তরুণ প্রজন্মই তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে আবার রাজপথে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহে কাঠমান্ডুতে পুলিশের হয়রানির শিকার হয়ে ২৫ বছর বয়সী এক রাইড শেয়ারিং চালকের আত্মাহুতির ঘটনা এই গণঅসন্তোষকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুর একটি সড়কে গণেশ নেপালি নামের এক রাইডার গ্রাহকের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় পুলিশ গিয়ে আকস্মিকভাবে তাঁর মোটরসাইকেলের চাকা লক করে দেয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গণেশ নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

এই মর্মান্তিক মৃত্যুর জেরে গত রোববার কাঠমান্ডুর প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র সিংহদরবার সচিবালয়ের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। আন্দোলনকারীদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল–‘দরিদ্রদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকারকে সম্মান করো’। অবিলম্বে অবৈধ গ্রেপ্তার বন্ধ এবং সরকারের উচ্ছেদ অভিযানের শিকার ভূমিহীন বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের দাবি জানান বিক্ষুব্ধরা। 

প্রশাসনের সহানুভূতিহীন নীতি
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বলেন শাহ ফুটপাত পরিষ্কার ও বস্তি উচ্ছেদে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন, যা তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও অব্যাহত থাকে। নদীতীরের বস্তি উচ্ছেদসহ বহু ক্ষেত্রে এই অভিযানগুলো সহিংস রূপ নেয়। শহরের প্রান্তিক ও দরিদ্র বাসিন্দাদের প্রতি প্রশাসনের সহানুভূতিহীন আচরণেই মূলত নেপালি তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর পুলিশ ক্রমাগত তাদের সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করছে। সাধারণ তদারকি সংস্থার বদলে তারা এমন এক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে, যা দেশের মূল পুলিশ বাহিনীর অনৈতিক কৌশলগুলোর অনুকরণ করছে। স্থানীয় সিনিয়র অ্যাডভোকেট রাজু চাপাগাইন জানান, আইনি কাঠামোয় পৌর পুলিশকে শারীরিক বলপ্রয়োগ বা সংঘর্ষ দমনের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাদের কাজ আলোচনা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পৌরসভাকে সহায়তা করা। ট্রাফিক–সংক্রান্ত সমস্যা ট্রাফিক পুলিশের দেখার কথা হলেও পৌর কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত হকারদের তাড়া করছেন ও নাগরিকদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

আইন অনুযায়ী, পৌর পুলিশ বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা তদারকি করা। এখানে লাঠিচার্জ বা নাগরিকদের আটক করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তা সত্ত্বেও শাহ প্রশাসনের অধীনে পৌর পুলিশের সহিংসতার ভিডিও ক্রমাগত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সরকার তরুণ প্রজন্মের জবাবহিদির মুখে পড়েছে। 

আরও পড়ুন

×