চীন ও রাশিয়া আতঙ্ক
পশ্চিমা সাহায্যে নতুন গোয়েন্দা সংস্থা গঠন জাপানের
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম এমন সিদ্ধান্ত
ছবি : রয়টার্স
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০১:২১ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০১:২২
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো একটি কেন্দ্রীভূত গোয়েন্দা সংস্থা গঠনের উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নিয়েছে জাপান। এ কাজে পশ্চিমা মিত্রদের সাহায্য নিচ্ছে দেশটি।
জাপানের শীর্ষ নেতারা প্রযুক্তি, কর্মী নিয়োগ ও অগ্রাধিকারের মতো বিষয়গুলোতে পরামর্শের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির মতো দেশগুলোর সঙ্গে একান্তে যোগাযোগ করেছেন। জাপান ও অন্যান্য দেশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানতে পেরেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
রোববার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছরে কয়েক ডজন রুশ গুপ্তচর জাপানে আশ্রয় নিয়েছে। কারণ, ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে জাপান থেকে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ কেনা, সেগুলো রাশিয়ায় পাঠানো ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানো। বিদেশি কর্মকর্তারা এই বিষয়ে জাপানকে সতর্ক করলেও তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ ধীর।
জাপানের গোয়েন্দা ব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরেই খণ্ডিত। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা, কূটনীতিক, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা আলাদাভাবে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে, কিন্তু নিজেদের মধ্যে তা আদানপ্রদান করে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমন্বয়হীনতার কারণেই জাপান গুপ্তচরবৃত্তি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের কাছে এতটা অরক্ষিত।
বিধিনিষেধ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা সানায়ে তাকাইচির
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ওপর যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে একটি অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা গঠন তার এই প্রচেষ্টার অংশ। ‘শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ’ জাপানের স্বপ্ন দেখানো এই কট্টরপন্থি নেতা ইতোমধ্যে অস্ত্র রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। যুদ্ধোত্তর যুগে জাপানের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি।
এখন তাকাইচি রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি রক্ষা এবং বিদেশি প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা, বিশেষ করে চীনের হস্তক্ষেপ ঠেকাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চাইছেন।
জাপানে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যান্ড্রু শিয়ারার; যিনি তাকাইচি সরকারকে অনানুষ্ঠানিকভাবে পরামর্শ দিয়েছেন–বলেন, জাপানি কর্মকর্তারা মনে করেন তাদের দেশের গোয়েন্দা সক্ষমতা ‘কয়েক দশক ধরে এক জায়গাতেই থমকে আছে।’
ছদ্মবেশে জাপানি ভাষার নিউজ চ্যানেল চীনের
সাইবার সিকিউরিটি রিসার্চ গ্রুপ সিটিজেন ল্যাবের গবেষকদের তথ্যমতে, বেইজিংপন্থি মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর জন্য চীন সম্প্রতি জাপানি ভাষার নিউজ চ্যানেলের ছদ্মবেশে বেশ কিছু ওয়েবসাইট তৈরি করেছে।
যেভাবে গুপ্তচরদের আস্তানা বানালেন পুতিন
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ সেনারা ইউক্রেনে হামলা চালানোর পরপরই পশ্চিমা নেতারা নিজেদের রাজধানী থেকে শত শত রুশ গুপ্তচরকে বহিষ্কার করেন এবং ক্রেমলিনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা কোম্পানিগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করেন। সমন্বিত ওই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল ক্রেমলিনের জন্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং মাইক্রোচিপ, ট্রান্সমিটার ও অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মতো সরঞ্জাম কেনা কঠিন করে তোলা।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এরপর থেকে বহিষ্কৃত ওই গুপ্তচরদের কয়েক ডজনকে একটি অপ্রত্যাশিত জায়গা, জাপানে দেখা গেছে। দেশটির দুর্বল গুপ্তচরবৃত্তি আইন এবং সমৃদ্ধ উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প রাশিয়ার যুদ্ধপ্রচেষ্টায় জাপানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে। ইউক্রেন সরকারের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে জাপানি যন্ত্রাংশ রয়েছে। টোকিওতে এই কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপন ইউনিট, যার নাম ‘২০তম অধিদপ্তর’।
- বিষয় :
- গোয়েন্দা সংস্থা
- জাপান