ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

অস্ত্রের মজুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রের

যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে যাওয়ার আভাস দুই পক্ষেরই

অস্ত্রের মজুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রের
×

ছবি : সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০১:২৮

ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। হরমুজ প্রণালি নিয়ে টানা উত্তেজনার মধ্যেই ঘটল এই ঘটনা। তেহরান এরই মধ্যে বলেছে, সর্বশেষ হামলা গত কয়েক মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। এদিকে, এমন একটি সময় এসব হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্য হারে কমছে বলে খবর এসেছে। 

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গত রোববার ইরানের স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম সামাজিক মাধ্যম এক্সকে জানায়, বেসামরিক নৌযান ও বাণিজ্যিক জাহাজ যাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই তেহরানের সক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে তারা। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে বলেছেন, ইরানের বাহিনীকে দায়বদ্ধতার আওতায় আনতে হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইরানের সামরিক বাহিনীকে শায়েস্তা করা হচ্ছে এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি।

এদিকে, ইরান উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা চারটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা গতকাল সোমবার ইরানের চালানো হামলা প্রতিহত করেছে। বাহরাইনের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কবলে পড়া ও তা ঠেকানোর তথ্য এসেছে। দেশটি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, তেহরান পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ায় বেসামরিক ও ব্যক্তিমালিকানাধীন অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। ওই স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দুই দেশ একমত হয়েছিল এই সংঘাতের স্থায়ী অবসানের পথ খুঁজতে আলোচনায় বসার জন্য। কয়েক দফা আলোচনাও হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে। তবে নতুন বাস্তবতা হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে সেগুলোকেও।

গত রোববার ইরান কাতারেও হামলা চালিয়েছে। গত এপ্রিলের পর নতুন করে আবার হামলার কবলে পড়তে শুরু করেছে দেশটি।

ইরানের যেসব স্থানে হামলা হয়েছে
ইরানের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, গত রোববার বন্দর শহর সিরিক ও বন্দর আব্বাসের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাশাপাশি কেশম দ্বীপেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব হামলা গত কয়েক মাস ধরে পশ্চিম এশীয় অঞ্চলে উত্তেজনা নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়টি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শাসক শ্রেণি হরমুজ প্রণালিতে আবার অনিরাপত্তা ফিরিয়ে এনেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে বিঘ্নিত করছে। তারা আরও জানায়, গত শনিবার মাসকাটে ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালির যান চলাচল সামাল দেওয়াবিষয়ক যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ওমানের ওপর চাপ তৈরি করেছে।

তলানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত
এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতি বিপদ বয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এই তথ্য। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, বর্তমান হারে হামলা চলতে থাকলে আরও চাপের মুখে পড়বে মার্কিন সরকার।

ট্রাম্প গত শুক্রবার ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে হামলা চলমান থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে অস্ত্রের মজুতের যে অবস্থা, তাতে কোনো কারণে চীন বা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যাপক চাপের মুখে পড়বে, তাদের সক্ষমতা প্রভাবিত হবে।

অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কোর ও থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষক মার্ক কানসিয়ান বলেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে যে হারে যুদ্ধ চলছে, সেভাবে চলতে থাকলে মজুত কমবে এবং নতুন ও উচ্চতর ঝুঁকি তৈরি হবে ইন্দো প্রশান্ত অঞ্চলকে ঘিরে।’

এদিকে, যুদ্ধবিরতি যে আসলেও শেষ হওয়ার পথে–সে ইঙ্গিত মিলেছে ইরানের আলোচক দলের প্রধান বাঘের গালিবাফের পক্ষ থেকেও। গত রোববার সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘একপক্ষীয় চুক্তির দিন শেষ। আমরা আপনাদের বলেছিলাম: হয় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন, নাহয় মূল্য পরিশোধ করুন। বাস্তবতা কড়া নাড়ছে।’

আরও পড়ুন

×