ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

এলডিসির জন্য রেয়াতি অর্থায়ন ও বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো সংস্কারের আহ্বান

এলডিসির জন্য রেয়াতি অর্থায়ন ও বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো সংস্কারের আহ্বান
×

ইকোসক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি : সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৫:২৬ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৫:২৭

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য পর্যাপ্ত, পূর্বানুমেয় ও সাশ্রয়ী রেয়াতি অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে এলডিসি গ্রুপ। একই সঙ্গে জলবায়ু অর্থায়ন সহজপ্রাপ্য করা, বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি উদ্বেগজনকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঋণের বাড়তি বোঝা, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কমে যাওয়া, ডিজিটাল বৈষম্য এবং সাশ্রয়ী অর্থায়নের সীমিত সুযোগের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

তিতুমীর বলেন, এসব সংকট শুধু ২০৩০ এজেন্ডার বাস্তবায়নই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং দোহা কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বর্তমানে ১৪টি এলডিসি বিভিন্ন পর্যায়ে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং তাদের ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি উল্লেখ করেন, নজিরবিহীন রাজনৈতিক, সামষ্টিক অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও বৈশ্বিক অভিঘাতের কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত করার আবেদন জানিয়েছে। উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোর জন্য এই অতিরিক্ত সময় সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, সুষ্ঠু উত্তরণ কৌশল (এসটিএস) বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য অপরিহার্য।

আগামী বছর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠেয় দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে (মিড-টার্ম রিভিউ) গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, ঋণঝুঁকি মোকাবিলায় রেয়াতি অর্থায়ন বাড়াতে হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উৎপাদন সক্ষমতা, সহনশীল অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা ও মৌলিক সেবায় বিনিয়োগ জোরদার করতে হবে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, রেয়াতি অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, ঋণ স্থগিতের সুযোগ, টেকসই ঋণ সমাধান এবং আরও ন্যায্য অর্থায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

জলবায়ু অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, অভিযোজন, সহনশীলতা বৃদ্ধি, জ্বালানি রূপান্তর এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিলের জন্য সহায়তা হতে হবে অতিরিক্ত, পর্যাপ্ত ও সহজপ্রাপ্য। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সহনশীল অবকাঠামোয় বিনিয়োগের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাজারে প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ, সুরক্ষাবাদী প্রবণতা কমানো এবং উন্নয়নবান্ধব উৎস-নির্ধারণ বিধিমালা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার আহ্বানও জানান তিনি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক সংহতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এলডিসি গ্রুপ সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একটি কার্যকর মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আরও পড়ুন

×