ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ঢাকার আদালতে বিএনপি-আ’লীগপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, উত্তেজনা

ঢাকার আদালতে বিএনপি-আ’লীগপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, উত্তেজনা
×

আদালত চত্বরে আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা। ছবি: সংগৃহীত

আদালত প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ২১:৪২

অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের (চার্জ) শুনানি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছেন আদালত। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরী আজ মঙ্গলবার এ তারিখ দেন। 

‘জয় বাংলা ব্রিগেডের’ জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার এ মামলার শুনানির পর বিকেলে বিএনপি ও  আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। 

আইনজীবীরা জানান, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এবং বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। এ সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক কয়েকজন আইনজীবীকে ধাক্কাধাক্কি করে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁদের। 

এদিন এ মামলায় শুনানি শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী, ‘কামরুল ইসলামসহ অনেকেই সাংবাদিকদের ব্রিফিং করতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে সমবেত হন। এ সময় তারা মামলা বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে মত কোনো ঘটনা এ মামলায় নেই। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁদের আটক রাখা হয়েছে। মামলায় রাষ্ট্রবিরোধীর কোনো উপাদান নেই। শুধু হয়রানি করার জন্য তাঁদের আটক রাখা হচ্ছে। আসামিরা সম্পূর্ণ নির্দোষ।’

তাঁদের বক্তব্য শেষ করতে না করতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুকসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী তাঁদের সামনে এসে দাঁড়ান। কিছুক্ষণ পরে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন। এ সময় কয়েকজন ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা তাঁদের পেছন থেকে ধাক্কা দিতে দিতে আদালত চত্বর থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে তাদের ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবুল কালাম খান জানান, ‘আওয়ামী লীগ পন্থি আইনজীবীরা সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছিলেন। আমি তাদেরকে কয়েকবার সতর্ক করেছি। কারণ পুলিশ ধরপাকড় করলে দোষীদের সঙ্গে নির্দোষীরাও আটক হতে পারে। এ কারণে তাঁদের ঢাকা বারে আনা হয়েছিল। পরে তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শেখ হাসিনা তাঁর নেতাকর্মীদের কাছে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এ বক্তব্য সারাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।’
 
ওই ঘটনায় গতবছর ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন সিআইডির সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। 

আরও পড়ুন

×