চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সব কেন্দ্র পরীক্ষার উপযোগী: মাহ্দী আমিন
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ২২:০২
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব বোর্ডের অধীন পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার উপযোগী বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতামত নিয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে কয়েকটি এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরে অন্য সব বোর্ডের অধীন এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের মতামত পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, কোথাও জলাবদ্ধতা বা যাতায়াতের সমস্যার সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত অথবা পরীক্ষার সময় বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারলে, তিনি চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল পাওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটিকে তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থী পারাপারের প্রসঙ্গ তুলে মাহ্দী আমিন বলেন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ওই একটি কেন্দ্রেই আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী সাময়িক সমস্যায় পড়েন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা হয়।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, সারা দেশের কয়েকটি কেন্দ্রের ছবি বা ভিডিও দিয়ে পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। পুরোনো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু শিক্ষার্থী ভোগান্তিতে পড়েছেন, আবার বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত না করে তাদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।