কাল সচিব কমিটির বৈঠক
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত হতে পারে
ফাইল ছবি
দেলওয়ার হোসেন
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ২১:৫৪
সরকারি চাকরিজীবী, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নতুন বেতন-ভাতা ও আর্থিক সুবিধা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে সরকার। আগামীকাল বুধবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির ষষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
এ বৈঠকেই তিনটি কমিশনের সুপারিশ চূড়ান্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করা শর্তে সমকালকে বলেন, ‘গত পাঁচটি বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য, মূল্যস্ফীতির প্রভাব, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী সুবিধা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। আগামীকালের বৈঠকে এসব বিষয়ে সমন্বিত সুপারিশের খসড়া চূড়ান্ত করার চেষ্টা থাকবে।’
সর্বশেষ গত ৬ জুলাই সচিব কমিটির বৈঠকে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়ানোর পরিবর্তে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১ থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত বেতন বাড়তে পারে ৬০-৭০ শতাংশ, আর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০-১০০ শতাংশ।
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করবে এই কমিটি। এরপর সচিব কমিটির সুপারিশ আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে। তবে মন্ত্রিসভা চাইলে সুপারিশে পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন করতে পারবে। অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এরপর কার্যকর হবে নতুন বেতন কাঠামো।
আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, দীর্ঘ সময় পর নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে তারা শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়; মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধারও বাস্তবসম্মত সংস্কার প্রত্যাশা করছেন।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর থেকে প্রতি বছর তাদের মূল বেতনের নির্ধারিত ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও, নতুন করে আর পে-স্কেলের ঘোষণা আসেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান এর নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া বৈশাখি ভাতার হার বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ এবং যাতায়াত ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ব্যাপক সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- বিষয় :
- পে স্কেল
- বৈঠক
- সরকারি চাকরিজীবী
- জাতীয় বেতন কমিশন