রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন
‘উচ্চপর্যায়ের অনুরোধে’ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ১৩:১৪ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ১৪:৪৭
রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে সফর সংক্ষিপ্ত করে ঢাকায় ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। আজ শুক্রবার দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক সফরে গিয়েছিলেন স্পিকার। সফরসূচি অনুযায়ী, ২৬ জুলাইয়ের জন্য ফিরতি টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে আজ দেশে ফিরতে স্পিকারকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অনুরোধ করা হয়। সংসদ সচিবালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সফর সূচি অনুযায়ী ২৬ জুলাই স্পিকারের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয়েছে। সে কারণে তিনি শুক্রবারই দেশে ফিরবেন।’
কী কারণে দ্রুত দেশে ফিরছেন স্পিকার এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘গতকাল থেকেই বিভিন্ন গুঞ্জন (রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ) শুনছি। সে কারণে হয়তো সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। আশা করি, সবকিছু কালকেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।’
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সে ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেও, সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।
গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দলটির অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন অথবা আত্মগোপনে রয়েছেন।
৭৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। যদিও রাষ্ট্রপতির পদটি সাংবিধানিকভাবে মূলত আনুষ্ঠানিক, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তার ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পায়।
রয়টার্স জানিয়েছে, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।