ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উপকূলীয় সহনশীলতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

উপকূলীয় সহনশীলতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৪৬

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সহনশীলতা বাড়াতে প্রকৃতিনির্ভর সমাধান চিহ্নিত ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী একটি কারিগরি পরামর্শ সভা শুরু হয়েছে।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ফ্রেন্ডশিপ ও কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে এ সভার উদ্বোধন হয়।

আয়োজকেরা জানান, উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো দেশের কোন কোন উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে, তা বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি তথ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা। এ তথ্য জাতীয় উপকূলীয় সহনশীলতা পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল। এ ছাড়া প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার ও মেরিন ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল ওয়াহাব উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। বক্তব্য দেন কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌরভ মালহোত্রাও।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অঞ্চলে কাজ করা সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগগুলোর সুফল আরও বাড়বে।

রুনা খান বলেন, উপকূলীয় সহনশীলতা জোরদারে অর্থ, পরিকল্পনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজ সরকারের উদ্যোগকে সহায়তা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌরভ মালহোত্রা বলেন, ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ জলবায়ুজনিত ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দুই দিনের এ কর্মশালায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা এবং যেসব স্থানে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া যেতে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা মানচিত্র, বৈজ্ঞানিক তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অগ্রাধিকারভিত্তিক এলাকা, জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিয়ে আলোচনা করছেন।

আয়োজকদের মতে, কর্মশালাটি ‘মাউন্টেনস টু ম্যানগ্রোভস’ আঞ্চলিক উদ্যোগের অংশ। বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালকে নিয়ে পরিচালিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে পার্বত্য জলাধার থেকে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ পর্যন্ত আন্তঃসংযুক্ত প্রতিবেশব্যবস্থা সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে প্রকৃতিনির্ভর সমাধান বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কর্মশালার শেষে উপকূলীয় সহনশীলতা জোরদারে অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।

আরও পড়ুন

×